Breaking News

Dipsita Dhar CPM membership

সিপিএমের সদস্যপদ নবীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা: দীপ্সিতা ধরের নীরবতা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

সিপিএমের সদস্যপদ এখনও নবীকরণ করেননি দীপ্সিতা ধর। সময় থাকলেও তাঁর নীরবতা ঘিরে বাম রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

সিপিএমের সদস্যপদ নবীকরণ করেননি দীপ্সিতা ধর, বাম রাজনীতিতে জল্পনা

Dipsita Dhar CPM membership

ক্লাউড টিভি ডেস্ক | রাজনীতি  : বাম রাজনীতির ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ, প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী ও সিপিএমের তরুণ মুখ Dipsita Dhar–কে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তিনি তাঁর দল Communist Party of India (Marxist) বা সিপিএমের প্রাথমিক সদস্যপদ নবীকরণ করেননি (Dipsita Dhar CPM membership)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বাম শিবিরের অন্দরে যেমন আলোচনা শুরু হয়েছে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি দলে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন কোনও সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?

সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দলের সদস্যদের সদস্যপদ নবীকরণ করার নিয়ম রয়েছে। সাধারণত এই প্রক্রিয়া জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। দলীয় সূত্রে খবর, অধিকাংশ সদস্য ইতিমধ্যেই তাঁদের সদস্যপদ নবীকরণ করেছেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়েও দীপ্সিতা ধরের নাম সেই তালিকায় না থাকায় বিষয়টি নজরে আসে। প্রথমে বিষয়টিকে তেমন গুরুত্ব না দেওয়া হলেও, সময় যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে কৌতূহল।

এই প্রসঙ্গে দীপ্সিতা নিজে এখনও সদস্যপদ নবীকরণ না করলেও তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন—এখনও নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়নি। অর্থাৎ ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাঁর হাতে সময় রয়েছে। তিনি একে সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেই ব্যাখ্যা করেছেন। তবে তিনি আদৌ সদস্যপদ নবীকরণ করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করেননি।

দীপ্সিতা ধরের রাজনৈতিক উত্থান মূলত ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরেই। জেএনইউ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা এবং পরবর্তী সময়ে রাজ্য ও জাতীয় স্তরে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তাঁকে বাম রাজনীতির ‘ইয়ং ফেস’ হিসেবে পরিচিত করেছে। বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি সিপিএমের প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন। ফলে তাঁর মতো পরিচিত মুখের সদস্যপদ নবীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্ব পাচ্ছে।

রামের মুখে প্রাক্তন বামনাম : সাংগঠনিক রদবদলে লালমুখী হচ্ছে গেরুয়া শিবির

গানের মঞ্চ ছেড়ে রাজনীতির পথে অরিজিৎ সিং? জল্পনায় তোলপাড় বাংলা

দলীয় অন্দরের একাংশের মতে, বিষয়টি খুব বড় করে দেখার কিছু নেই। অনেক সময় সাংগঠনিক ব্যস্ততা, ব্যক্তিগত কারণ বা প্রশাসনিক জটিলতার জন্য সদস্যপদ নবীকরণ কিছুটা দেরিতে হয়। আবার অন্য একটি অংশ মনে করছে, সাম্প্রতিক কালে বাম রাজনীতির ভেতরে যে পুনর্গঠনের আলোচনা চলছে, তার সঙ্গে দীপ্সিতার অবস্থানও যুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্ব, নতুন রাজনৈতিক ভাষ্য এবং আন্দোলনের কৌশল নিয়ে যে মতভেদ তৈরি হচ্ছে, তার প্রতিফলন হিসেবেই কেউ কেউ এই ঘটনাকে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীপ্সিতা ধরের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল, কারণ তিনি শুধুমাত্র একজন সাধারণ কর্মী নন, বরং একটি প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। বামফ্রন্টের ভবিষ্যৎ, ছাত্র ও যুব আন্দোলনের দিশা—এই সব প্রশ্নেই তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তাঁর সদস্যপদ নবীকরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই নানা রাজনৈতিক ব্যাখ্যার জন্ম দেবে।

তবে বাস্তবতা হল, এখনও হাতে সময় রয়েছে। ৩১ মার্চের আগে যদি তিনি সদস্যপদ নবীকরণ করেন, তবে এই জল্পনার অনেকটাই থেমে যাবে। আর যদি তা না হয়, সেক্ষেত্রে বাম রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। আপাতত দিপ্সিতা ধরের নীরবতা এবং অপেক্ষার ঘড়িই এই মুহূর্তে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয়।

আরও পড়ুন :

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ধরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হল হাসিনা বিরোধী এক যুবনেতাকে

Breaking News : ভোটের আগে বিজেপিতে বড় ধাক্কা, তৃণমূলে যোগ দিলেন কার্শিয়াঙের বিধায়ক

ad

আরও পড়ুন:

Sitemap