Mamata Banerjee Bhabanipur election
ক্লাউড টিভি ডেস্ক | রাজ্য রাজনীতি : ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে তীব্র বিতর্কের মাঝেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে সামনে রেখে আত্মবিশ্বাসী বার্তা (Mamata Banerjee Bhabanipur election) দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যত প্রতিকূল পরিস্থিতিই থাকুক না কেন, ভবানীপুর থেকে তিনি “এক ভোটে হলেও” জিতবেন।
কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে এক কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার নামে হাজার হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে। তবু মানুষের উপর ভরসা রেখেই তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে নামবেন বলে স্পষ্ট করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ভবানীপুর আমার ছোট কেন্দ্র হতে পারে, কিন্তু এখানকার মানুষ আমাকে চেনে। ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হলেও আমি ভয় পাই না। মানুষের আশীর্বাদ থাকলে এক ভোটে হলেও আমি জিতব।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে রাজ্যে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শুধু ভবানীপুর নয়—সারা রাজ্যেই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বড়সড় অনিয়ম হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলায় প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটার ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ভারতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় শাসক দলকে দায়ী করেছেন।
মমতা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে। প্রয়োজন হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলেও স্পষ্ট করে দেন। তাঁর কথায়, “ভোটাধিকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর কেন্দ্রটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে শুধু একটি বিধানসভা আসন নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই কেন্দ্র থেকেই তিনি বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন এবং এখানেই তাঁর সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম ঘাঁটি রয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রকে ঘিরে যেকোনো বিতর্ক রাজ্য রাজনীতিতে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিরোধী শিবির অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যার সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কোনও যোগ নেই। তবে বাস্তবে কতজন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, “এক ভোটে হলেও জিতব”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন নিজের আত্মবিশ্বাস তুলে ধরছেন, তেমনই সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করার বার্তাও দিচ্ছেন। ভোটার তালিকা বিতর্ককে তিনি জনসংযোগের একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করতে চাইছেন বলেই মনে করছেন তাঁরা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্র এখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভোটার তালিকা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক লড়াই—সব মিলিয়ে এই কেন্দ্র যে আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নেবে, তা বলাই যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক যতই বাড়ুক, ভবানীপুরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে এক চুলও নড়তে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কণ্ঠে স্পষ্ট বার্তা—লড়াই হবে, আর ফল যাই হোক, মানুষের রায়েই তিনি বিশ্বাস রাখবেন।
আরও পড়ুন :
ইরান হামলার মধ্যেই UAE-তে Amazon AWS ডেটা সেন্টারে আগুন, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ
মার্কিন–ইজরায়েলি হামলায় আহত হয়ে মৃত্যু খামেনির স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তেহর , ইরানে শোকের ছায়া