Breaking News

Mausam Benazir Noor election boycott

অ্যাডজুডিকেশন তালিকা চূড়ান্ত না হলে বিধানসভা নির্বাচন বয়কটের ডাক—কংগ্রেস নেতৃত্বকে আবেদন করবেন মৌসম বেনজির নূর

অ্যাডজুডিকেশন তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচন বয়কটের পক্ষে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে আবেদন করবেন মৌসম বেনজির নূর—ভোটার তালিকা বিতর্কে নতুন মোড়।

‘ভোট বয়কট করতে হবে’! রাহুলকে আবেদন মৌসমের

Mausam Benazir Noor election boycott

ক্লাউড টিভি ডেস্ক | রাজ্য রাজনীতি : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে যখন তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময় আরও এক ধাপ এগিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেন প্রাক্তন সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা মৌসম বেনজির নূর। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন ভোটার তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচন বয়কট (Mausam Benazir Noor election boycott) করার জন্য কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন করবেন

মৌসম বেনজির নূরের অভিযোগ—বর্তমান ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক নাগরিককে ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার ফলে তাঁদের ভোটাধিকার কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় নির্বাচন হলে তা অবাধ ও সুষ্ঠু হবে না বলেই তাঁর দাবি।

মালদহ জেলা থেকে সামনে আসা তথ্য এই বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছে। জেলা প্রশাসনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মালদহে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ভোটারকে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা যাচাইাধীন তালিকায় রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটারের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। মৌসমের বক্তব্য, “এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে অনিশ্চয়তায় রেখে নির্বাচন হলে তা গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”

সুপ্রিম কোর্টে আজ পশ্চিমবঙ্গের SIR মামলা: ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজ্য-কমিশন টানাপোড়েন চরমে

বামফ্রন্ট–আইএসএফ আসন সমঝোতা চূড়ান্তের পথে: ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী রাজনীতিতে বড় সমীকরণ

মৌসম বেনজির নূর মনে করেন, ভোটার তালিকার এই পরিস্থিতি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত ও বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার বা ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে নির্বাচনী ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ভোটাধিকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেই অধিকার নিয়ে কোনও আপস হতে পারে না।”

এই প্রেক্ষাপটে তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানাবেন বলে জানিয়েছেন—যেন দলটি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন বয়কটের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে। মৌসমের মতে, এতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি হবে এবং ভোটার তালিকা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে চূড়ান্ত করার পথ খুলবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, মৌসমের এই অবস্থান কংগ্রেসের অন্দরেও নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। কারণ নির্বাচন বয়কট কোনও ছোট সিদ্ধান্ত নয়। একদিকে এটি ভোটার তালিকা বিতর্ককে জাতীয় স্তরে তুলে ধরতে পারে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে দলীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়তে পারে। এখনও পর্যন্ত কংগ্রেসের রাজ্য বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ভোটার তালিকা বিতর্ক নিয়ে শুধু কংগ্রেস নয়—তৃণমূল কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও সরব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই অভিযোগ করেছেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের নামে বাংলায় লক্ষ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন করা হচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে মৌসম বেনজির নূরের মন্তব্য রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘অ্যাডজুডিকেশন’ তালিকা থাকা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও, যদি সেই সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয় এবং দীর্ঘদিন ঝুলে থাকে, তাহলে তা অবশ্যই প্রশ্নের জন্ম দেয়। মালদহের মতো জেলায় একসঙ্গে লক্ষাধিক ভোটার অনিশ্চয়তায় থাকলে নির্বাচন পরিচালনা নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মৌসম বেনজির নূরের নির্বাচন বয়কটের প্রস্তাব শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়—এটি ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকার নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন দেখার, কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব এই দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয় এবং নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কের জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়।

আরও পড়ুন :

‘এক ভোটে হলেও ভবানীপুরে জিতব’—ভোটার তালিকা বিতর্কে আত্মবিশ্বাসী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ইরান হামলার মধ্যেই UAE-তে Amazon AWS ডেটা সেন্টারে আগুন, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ

ad

আরও পড়ুন:

Sitemap