West Bengal central schemes audit
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সূত্রের খবর, গত ১৫ বছরে রাজ্যে আটকে থাকা, ধীরগতিতে চলা বা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বিস্তারিত পর্যালোচনা শুরু করেছে নয়াদিল্লি (West Bengal central schemes audit)। কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রককে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন প্রকল্প কোথায় আটকে আছে, কোন কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে এবং কোথায় দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন— তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি করতে।
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৩১৪টি কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখন কেন্দ্রের বিশেষ নজরে রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির সম্মিলিত আর্থিক মূল্য প্রায় ₹২৮ লক্ষ কোটি। প্রশাসনিক মহলের মতে, কোনও একটি রাজ্যকে ঘিরে এত বড় মাপের পর্যালোচনা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই দেখা গিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, এই রিভিউ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মন্ত্রককে প্রকল্পভিত্তিক অগ্রগতি, অর্থ বরাদ্দের ব্যবহার, অনুমোদনের জট, প্রশাসনিক বাধা এবং বাস্তবায়নের ঘাটতি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে কোন কোন প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে কাগজে আটকে রয়েছে বা মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি, সেই দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক— দুই দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি অভিযোগ করে এসেছে যে, পশ্চিমবঙ্গে বহু কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজনৈতিক কারণে বাধার মুখে পড়েছে অথবা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এবার সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রকল্পগুলিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই পর্যালোচনার আওতায় সামাজিক কল্যাণ, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন, সড়ক নির্মাণ, আবাসন, রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থাকতে পারে বলে সূত্রের খবর। কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত প্রশাসনিক বাধা দূর করে প্রকল্পগুলিকে মাঠপর্যায়ে কার্যকর করা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ (West Bengal central schemes audit) শুধু উন্নয়নমূলক নয়, রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে কেন্দ্র এখন “delivery and implementation”-এর উপর বিশেষ জোর দিতে চাইছে।
একই সঙ্গে এই অডিট নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করতে পারে। কারণ পর্যালোচনায় যদি বড়সড় বিলম্ব, অর্থ ব্যবহারে অসঙ্গতি বা প্রকল্প বাস্তবায়নে ঘাটতির তথ্য উঠে আসে, তাহলে তা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এই পর্যালোচনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। যদিও কেন্দ্রীয় সূত্র বলছে, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক মূল্যায়ন এবং উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার অংশ।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর কেন্দ্রের এই দ্রুত পদক্ষেপ স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আগামী দিনে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে চলেছে দিল্লি। আর সেই কারণেই এই ৩১৪টি প্রকল্পের রিপোর্ট আগামী দিনের বাংলা রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।