Joy Kamdar ED arrest Kolkata
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : কলকাতায় ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার সকালে বেহালায় ব্যবসায়ী জয় কামদারের বাড়িতে হানা দেয় Enforcement Directorate (ইডি)। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর তাঁকে আটক করে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে (Joy Kamdar ED arrest Kolkata) নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শহরের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী মহলে।
সূত্রের খবর, আর্থিক তছরুপ সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে অনেক দিন ধরেই নজরে ছিলেন জয় কামদার। রবিবার ভোরে ইডির একাধিক দল সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। তারই একটি দল পৌঁছয় বেহালায়, কামদারের বাড়িতে। তবে প্রথমে বাড়ির দরজা না খোলায় কিছু সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকদের। পরে দরজা খোলার পর শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জয় মূলত প্রোমোটিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এর আগেও তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়। ফলে এবারও এই অভিযান ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—কোন নতুন সূত্র মিলেছে, যার ভিত্তিতে আবার তাঁর বাড়িতে হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা?
তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বৃহত্তর আর্থিক অনিয়মের জাল। সম্প্রতি কসবার এক ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে ‘সোনা পাপ্পু’-র বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানের সূত্র ধরেই উঠে আসে জয় কামদারের নাম। তাঁকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁকে আটক করার সিদ্ধান্ত নেয় ইডি।
উল্লেখ্য, ‘সোনা পাপ্পু’ নামটি ইতিমধ্যেই কলকাতার অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে তদন্তে। ইডির দাবি, এই চক্রের মাধ্যমে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, জমি দখল এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ চলত। এই মামলায় একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে নগদ অর্থ, সোনা-রুপো এবং নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবারের এই অভিযানে শুধু বেহালাই নয়, কলকাতার আরও কয়েকটি এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি কলকাতা পুলিশের এক আধিকারিকের বাড়িতেও ইডি হানা দিয়েছে বলে খবর। ফলে এই তদন্ত যে আরও বড় আকার নিতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ভোটের আগে এমন ধারাবাহিক অভিযান নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে শুরু করেছে। কেউ এটিকে আইনত তদন্ত বলে সমর্থন করছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ তুলছেন।
অন্যদিকে, তদন্তকারীরা এখন মূলত খতিয়ে দেখছেন—এই আর্থিক লেনদেনের উৎস কী, এবং এর সঙ্গে কারা কারা যুক্ত। জয় কামদারের জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বেহালার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কলকাতায় ফের একবার ইডির তৎপরতা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।