NEET UG 2026 cancellation
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: NEET-UG 2026 পরীক্ষা বাতিল ঘিরে দেশজুড়ে যখন চরম ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তার আবহ, তখন National Testing Agency (NTA)-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন জনপ্রিয় শিক্ষক ও ইউটিউবার Khan Sir। প্রশ্নফাঁস কাণ্ড নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য (NEET UG 2026 cancellation) করেছেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর কটাক্ষ, “১০ টাকার বাচ্চাদের ডায়াপারও লিক হয় না, কিন্তু দেশের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিক হয়ে যাচ্ছে!”
NEET-UG বাতিলের সিদ্ধান্তে ইতিমধ্যেই লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া ও অভিভাবকের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই Khan Sir-এর বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তিনি সরাসরি NTA-র বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “NTA-র পুরো নাম হওয়া উচিত Never Trustable Agency।”
এক সাক্ষাৎকারে Khan Sir দাবি করেন, বারবার একই ধরনের দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটলেও শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষার নিরাপত্তা ব্যবস্থার একাধিক স্তরে গাফিলতি রয়েছে এবং এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের।
তিনি বলেন,
“একজন ছাত্র বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে। কেউ ৬৫০, কেউ ৭০০ নম্বরের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। আর শেষে যদি প্রশ্নফাঁসের জন্য পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়, তাহলে সেটা শুধু একটা প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, একজন ছাত্রের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া।”
Khan Sir আরও বলেন (NEET UG 2026 cancellation), পরীক্ষার আগে থেকেই বহু জায়গায় প্রশ্নপত্র ঘুরছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না বলেও দাবি তাঁর।
এই ঘটনায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং Supreme Court of India-এর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শুধু তদন্ত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তার জন্য স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
তিনি বলেন,
“দেশের মেডিক্যাল শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ এই পরীক্ষার উপর নির্ভর করে। তাই এর বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হলে গোটা সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল NEET-UG 2026 পরীক্ষা। পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক রাজ্য থেকে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের স্ক্রিনশট। এরপর তদন্তে নেমে কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করে। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই তদন্তভার দেওয়া হয়েছে Central Bureau of Investigation-কে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপে পড়েছেন পরীক্ষার্থীরাই। দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ আবার NTA-র সম্পূর্ণ পুনর্গঠনের দাবিও তুলেছেন।
শিক্ষামহলের একাংশের মতে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে আন্তর্জাতিক স্তরেও ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। NTA জানিয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না এবং অতিরিক্ত কোনও ফিও নেওয়া হবে না। খুব শীঘ্রই নতুন পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে।
তবে এখনও পর্যন্ত পুনঃপরীক্ষার নির্দিষ্ট দিন জানানো হয়নি। ফলে অনিশ্চয়তা কাটছে না ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে।