• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Arijit Singh voice struggle

মানুষ অপছন্দ করত তাঁর গলা! নিজেকে ‘টর্চার’ করে আজকের অরিজিৎ সিং—চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ভাইরাল

মানুষ তাঁর গলা পছন্দ করত না—এই কঠিন বাস্তবতা থেকেই শুরু অরিজিৎ সিংয়ের লড়াই। নিজের কণ্ঠ বদলাতে ‘নিজেকে টর্চার’ করার স্বীকারোক্তি এখন ভাইরাল, যা নতুন করে তুলে ধরছে তাঁর সাফল্যের অজানা গল্প।

মানুষ অপছন্দ করত তাঁর গলা! নিজেকে ‘টর্চার’ করে আজকের অরিজিৎ সিং—চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি ভাইরাল

Arijit Singh voice struggle

Published by: cloud_admin
  • Posted:April 25, 2026 10:13 am
  • Update:April 25, 2026 10:13 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : ভারতের সংগীত জগতে আজ যে নামটি আবেগ, ভালোবাসা এবং সুরের সমার্থক—তিনি Arijit Singh। কিন্তু এই সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প, যা নতুন করে সামনে এসেছে একটি পুরনো সাক্ষাৎকার (Arijit Singh voice struggle) ভাইরাল হওয়ার পর।

সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে অরিজিৎ সিং নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। বরং, তখন তাঁর কণ্ঠস্বর মানুষ একেবারেই পছন্দ করত না। এই প্রত্যাখ্যান তাঁকে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “মানুষ আমার গলা পছন্দ করত না। তাই আমি নিজের ওপর অনেক চাপ দিয়েছি, নিজেকে প্রায় টর্চার করেছি।”

এই মন্তব্য এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—কীভাবে একজন শিল্পী নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে শীর্ষে পৌঁছান।

অরিজিতের কথায়, তিনি শুধু গান গাইতেন না—নিজের কণ্ঠস্বরকে “গড়ে তুলতেন”। অর্থাৎ, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে শুধুমাত্র স্বাভাবিক প্রতিভা দিয়ে হবে না, বরং প্রয়োজন ধারাবাহিক অনুশীলন ও কৌশলগত পরিবর্তন। তাই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে রিয়াজ করতেন, নিজের গলার ওপর চাপ দিতেন, বিভিন্ন স্টাইলে গাওয়ার চেষ্টা করতেন। কখনও কখনও গলা ক্লান্ত হয়ে যেত, তবুও থামতেন না।

সংগীত বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাকে বলা যায় “ভোকাল মড্যুলেশন ট্রেনিং”—যেখানে গায়ক নিজের কণ্ঠের টেক্সচার, টোন এবং এক্সপ্রেশন পরিবর্তন করে শ্রোতার কাছে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলেন। অরিজিৎ ঠিক সেটাই করেছিলেন, এবং সেটাই তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়।

এই কঠোর পরিশ্রমের ফল প্রথম বড়ভাবে সামনে আসে ২০১৩ সালে, যখন তিনি গাইলেন Tum Hi Ho। গানটি শুধু জনপ্রিয় হয়নি, বরং ভারতজুড়ে এক আবেগের ঢেউ তোলে। সেই মুহূর্ত থেকেই অরিজিৎ সিং হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম সেরা প্লেব্যাক সিঙ্গার।

এরপর একের পর এক হিট গান—“Kabira”, “Raabta”, “Channa Mereya”—তাঁকে পৌঁছে দেয় সাফল্যের শীর্ষে। কিন্তু তাঁর এই যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সাফল্য কখনওই সহজে আসে না। এর পেছনে থাকে অগণিত ব্যর্থতা, আত্মসমালোচনা এবং কঠোর পরিশ্রম।

এই খবরটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সিংগিং থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। ফলে তাঁর পুরনো সাক্ষাৎকার এবং সংগ্রামের গল্প আবারও নতুন করে ভাইরাল হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গল্পটি নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। শুধু প্রতিভা থাকলেই সফল হওয়া যায় না—নিজেকে বদলানোর সাহস এবং পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হয়।

সব মিলিয়ে, অরিজিৎ সিং-এর এই স্বীকারোক্তি শুধু একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং এটি একটি অনুপ্রেরণার গল্প—যেখানে ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলার বার্তা রয়েছে।

More News