Damayanti Sen Women Safety Committee
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং নারী নির্যাতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত বিশেষ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন IPS অফিসার দময়ন্তী সেন। মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র উদ্যোগে তৈরি এই কমিটিতে (Damayanti Sen Women Safety Committee) তাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।
দময়ন্তী সেন দীর্ঘদিন কলকাতা পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। নারী সুরক্ষা, অপরাধ দমন এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির জন্য তিনি পরিচিত মুখ। অতীতে কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (Crime) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। আরজি কর কাণ্ড-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখনই তাঁর মতো একজন প্রাক্তন IPS-কে কমিটিতে আনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সূত্রের খবর, নতুন এই কমিটির (Damayanti Sen Women Safety Committee) মূল কাজ হবে গত কয়েক বছরে নারী নির্যাতন, পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা। একই সঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নতুন সুপারিশও সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে মহিলাদের উপর অত্যাচার এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে পৃথক প্যানেল গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন।
দময়ন্তী সেনকে প্রশাসনিকভাবে “কঠোর” অফিসার হিসেবেই দেখা হয়। অতীতে একাধিক সংবেদনশীল মামলার তদন্তে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছিল। ফলে নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটিতে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে সরকারের “বিশ্বাসযোগ্য মুখ” তুলে ধরার চেষ্টা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে আরজি কর হাসপাতাল-কাণ্ড, মহিলা নির্যাতন এবং আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, আগের প্রশাসনের আমলে বহু অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে শাসকপক্ষ দাবি করছে, নতুন সরকার নারী নিরাপত্তা নিয়ে “জিরো টলারেন্স” নীতি নিয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মহিলাদের জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করেছে নতুন রাজ্য সরকার। বিনামূল্যে বাসযাত্রা, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পে মাসিক আর্থিক সহায়তা-সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি তিনি নির্দেশ দেন, গত পাঁচ বছরে পুলিশি অত্যাচারের সমস্ত অভিযোগ গ্রহণ করতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নারী নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখেই আগামী দিনের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক রূপরেখা তৈরি করতে চাইছে নতুন সরকার। আর সেই কারণেই দময়ন্তী সেনের মতো পরিচিত প্রাক্তন পুলিশকর্তাকে সামনে আনা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এটি “রাজনৈতিক ইমেজ ম্যানেজমেন্ট”-এর অংশ। যদিও সরকারপক্ষের বক্তব্য, নারী সুরক্ষা নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ করতেই অভিজ্ঞ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের সামনে আনা হচ্ছে।
তবে দময়ন্তী সেনের অন্তর্ভুক্তি যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক— দুই ক্ষেত্রেই বড় বার্তা বহন করছে, তা নিয়ে একমত ওয়াকিবহাল মহল।