• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Kabir Suman TMC statement

‘আমি তৃণমূলপন্থী নই’! বিজেপির জয়ের আবহে সুর বদল কবীর সুমনের?

রাজ্যে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে কবীর সুমন। একসময় তৃণমূলের হয়ে লোকসভায় যাওয়া এই শিল্পী-প্রাক্তন সাংসদ এবার স্পষ্ট জানালেন, তিনি “তৃণমূলপন্থী নন”। তাঁর মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা।

‘আমি তৃণমূলপন্থী নই’! বিজেপির জয়ের আবহে সুর বদল কবীর সুমনের?

Kabir Suman TMC statement

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 6, 2026 6:23 am
  • Update:May 6, 2026 6:23 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও প্রাক্তন সাংসদ Kabir Suman। একসময় Trinamool Congress-এর হয়ে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে সাংসদ হওয়া সুমন (Kabir Suman TMC statement) এবার প্রকাশ্যে দাবি করলেন, তিনি “তৃণমূলপন্থী নন”। রাজ্যে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের আবহে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চর্চা।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে কবীর সুমন বলেন, তাঁকে “হাতেপায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিল” তৃণমূল। তবে তিনি কখনও নিজেকে তৃণমূলপন্থী বলে মনে করেননি। এই মন্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ‘ডিগবাজি’ বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বাংলার রাজনীতিতে কবীর সুমনের ভূমিকা বরাবরই ব্যতিক্রমী। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন এবং Mamata Banerjee-র আন্দোলনের অন্যতম সাংস্কৃতিক মুখ হয়ে উঠেছিলেন। পরে ২০০৯ সালে তৃণমূলের টিকিটে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

তবে সাংসদ হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে। বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যে দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনাও করেছিলেন কবীর সুমন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও তিনি তৃণমূলের জনপ্রিয় ‘খেলা হবে’ স্লোগান ও গান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই সময় India Today-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুমন বলেছিলেন, ওই প্রচার কৌশল তাঁর পছন্দ হয়নি।

এবার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর তাঁর নতুন মন্তব্য (Kabir Suman TMC statement) রাজনৈতিক তাৎপর্য বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। তৃণমূলের একাধিক নেতা, উপদেষ্টা এবং ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কবীর সুমনের বক্তব্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, বরং বাংলার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলনও হতে পারে। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এখন নিজেদের অবস্থান নতুন করে ব্যাখ্যা করতে শুরু করেছেন বলেও দাবি উঠছে। যদিও এই প্রসঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগদানের ইঙ্গিত দেননি সুমন।

এদিকে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ছবি সামনে আসছে। কোথাও প্রশাসনিক রদবদল, কোথাও আবার নিরাপত্তা শিথিল হওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। কালীঘাটে Mamata Banerjee-র বাড়ির সামনে থেকে ব্যারিকেড সরানো থেকে শুরু করে Abhishek Banerjee-র ‘শান্তিনিকেতন’-এর নিরাপত্তা কমে যাওয়া— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত।

কবীর সুমনের মন্তব্য সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমেও শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। একাংশের দাবি, তিনি বরাবরই স্বাধীনচেতা শিল্পী এবং কোনও রাজনৈতিক দলের ‘স্থায়ী মুখ’ ছিলেন না। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ কটাক্ষ করে বলছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলাতেই সুর বদলেছেন প্রাক্তন সাংসদ।

যদিও এখনও পর্যন্ত এই মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলার বর্তমান পরিস্থিতিতে কবীর সুমনের মতো পরিচিত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের মন্তব্য নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।

সব মিলিয়ে, বিজেপির জয়ের আবহে কবীর সুমনের “আমি তৃণমূলপন্থী নই” মন্তব্য এখন বাংলার রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

More News