Modi Thanthania Kali Temple
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন কলকাতার হৃদয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। রবিবার বিকেলে উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যবাহী Thanthania Kalibari-তে পুজো দিয়ে শুরু করলেন তাঁর রোড শো (Modi Thanthania Kali Temple)।
প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো এই কালীমন্দিরে মা সিদ্ধেশ্বরীর আরাধনা করেন প্রধানমন্ত্রী। পুজো শেষে মন্দিরের পুরোহিত তাঁর মাথায় প্রসাদী ফুল ছুঁইয়ে আশীর্বাদ করেন। এই ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করার পরই শুরু হয় তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি—যা সরাসরি যুক্ত রাজ্যের নির্বাচনী প্রচারের সঙ্গে।
এরপর বি.কে. পাল অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয় মোদীর রোড শো। শোভাবাজার, হাতিবাগান হয়ে খন্না মোড় পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোড শোতে উপচে পড়ে জনসমাগম। রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমায় প্রধানমন্ত্রীকে এক ঝলক দেখার জন্য। কোথাও ফুল ছড়িয়ে, কোথাও আবার ব্যানার-পোস্টার হাতে তাঁকে স্বাগত জানাতে দেখা যায় সমর্থকদের।
এই রোড শো ঘিরে উত্তেজনা এতটাই ছিল যে, অনেক জায়গায় ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের। কিছু জায়গায় ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টাও হয়, যদিও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি শুধুমাত্র একটি রোড শো নয়—এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। বাংলার শাক্ত ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ভোটারদের আবেগে প্রভাব ফেলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক জনসভাগুলিতেও প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতা “জয় মা কালী” স্লোগান দিয়ে শুরু করেছেন। এতে স্পষ্ট, ধর্মীয় আবেগ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাইছে বিজেপি।
এই কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী উত্তর ২৪ পরগনার ঠাকুরনগর এবং হুগলির হরিপালে দুটি জনসভাও করেন। সেখানে তিনি রাজ্যের শাসক দলকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং পরিবর্তনের ডাক দেন।
ঠনঠনিয়া কালীমন্দির নিজেই কলকাতার এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। ১৭০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে মা কালীর পূজা হয় “মা সিদ্ধেশ্বরী” রূপে এবং এটি শহরের অন্যতম প্রাচীন কালীমন্দির হিসেবে পরিচিত।
সব মিলিয়ে, মোদীর এই মন্দির দর্শন এবং রোড শো একসঙ্গে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বার্তা বহন করছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এই কর্মসূচি যে ভোটের অঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।