Partha Chatterjee ED Raid
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক | কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আবারও তৎপর হল Enforcement Directorate (ED)। শনিবার সকালে দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী Partha Chatterjee-র বাসভবনে পৌঁছে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (Partha Chatterjee ED Raid)। ভোটের মুখে এই অভিযানে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ED-র একটি বিশেষ দল সকালেই চ্যাটার্জির বাড়িতে পৌঁছয়। এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলে। এই অভিযানকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের অংশ বলেই জানিয়েছে ED।
এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর মাধ্যমে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ। অভিযোগ, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং সেই অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই মামলায় আগেই একাধিকবার তদন্ত করেছে ED ও Central Bureau of Investigation (CBI)।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালে এই একই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন Partha Chatterjee। দীর্ঘদিন জেল হেফাজতে থাকার পর তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পান। তবে তার বিরুদ্ধে তদন্ত এখনও চলমান এবং নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে বলেই দাবি তদন্তকারীদের।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি ED-র জারি করা সমনে হাজির না হওয়ায় সরাসরি তার বাসভবনে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই তল্লাশি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য মিলতে পারে, যা মামলার পরবর্তী ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এই অভিযানের পাশাপাশি মামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন মধ্যস্থতাকারীদের বিভিন্ন জায়গাতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সময়ে এই ধরনের তদন্তমূলক পদক্ষেপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে শাসক দল এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করতে পারে, অন্যদিকে বিরোধীরা এটিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। ফলে এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ED-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই অভিযান সম্পূর্ণ তদন্তের স্বার্থে এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। তারা দাবি করছে, প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই নতুন তল্লাশি আবারও প্রমাণ করল—এই মামলা এখনও শেষ হয়নি, বরং নতুন মোড় নিতে পারে। এখন নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপে—এই অভিযানে কী কী তথ্য উদ্ধার হয় এবং তা আইনি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলে।