• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

TMC MLAs Protest West Bengal Assembly

‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ ইস্যুতে সরব তৃনমূল শিবির, বিধানসভায় ধরনায় অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক

রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযান এবং তথাকথিত ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’-র প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরব হলেন তৃণমূল বিধায়করা। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে।

‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ ইস্যুতে সরব তৃনমূল শিবির, বিধানসভায় ধরনায় অনুপস্থিত ৫০ বিধায়ক

TMC MLAs Protest West Bengal Assembly

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 20, 2026 10:11 am
  • Update:May 20, 2026 10:11 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বিধানসভা চত্বরকে কেন্দ্র করে। উচ্ছেদ অভিযান এবং বিজেপির তথাকথিত “বুলডোজার সংস্কৃতি”-র বিরুদ্ধে এবার আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে দেখা গেল তৃণমূল কংগ্রেসকে। বিধানসভা অধিবেশনের মধ্যেই শাসক দলের একাধিক বিধায়ক প্রতিবাদে সামিল (TMC MLAs Protest West Bengal Assembly) হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুধু বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সংঘাত নয়, দলের ভিতরের কৌশল নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি কৌশলগত বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলা উচ্ছেদ অভিযান এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেখানে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, দেশের বিভিন্ন অংশে যেভাবে প্রশাসনিক অভিযানের নামে উচ্ছেদ চলছে, তা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। এই বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে তুলে ধরার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

বিধানসভার ভিতরে প্রতিবাদের পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে কর্মসূচির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। হাওড়া, শিয়ালদহ এবং শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রতিবাদ কর্মসূচি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তৃণমূলের দাবি, সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত বিষয়গুলিকে সামনে আনতেই এই আন্দোলনের পথে হাঁটছে তারা।

তবে ঘটনাটির (TMC MLAs Protest West Bengal Assembly) অন্য একটি দিকও সামনে এসেছে। দলীয় বৈঠকে কয়েকজন বিধায়ক নাকি নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, কয়েকজন বিধায়ক মনে করেছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে দলকে আরও দ্রুত এবং দৃশ্যমানভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত ছিল। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে আন্দোলন শুরু করেছে, সেখানে শাসক দলের অবস্থান আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের আলোচনা যে কোনও বড় রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল, সাংগঠনিক অবস্থান এবং জনসংযোগের ধরন নিয়ে নানা মতামত সামনে আসে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

এদিকে বিরোধী শিবিরও বিষয়টি নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। তাঁদের অভিযোগ, বিধানসভাকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের মঞ্চে পরিণত করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে শুধুমাত্র বিধানসভার একটি বিক্ষোভ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে কোন ইস্যু সামনে রেখে দলগুলি জনসংযোগ বাড়াতে চাইছে, তারও একটি ইঙ্গিত এই ঘটনার মধ্যে রয়েছে। বিশেষত উচ্ছেদ অভিযান, নাগরিক সমস্যা এবং জনজীবনের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলি এখন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

আগামী দিনে তৃণমূলের ঘোষিত কর্মসূচি কতটা জনসমর্থন পায় এবং বিরোধী দলগুলি তার কী জবাব দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

More News