• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

abs with rice diet

ভাত খেয়েই ‘সিক্স প্যাক’! চেন্নাইয়ের শ্রমিকের শরীরচর্চা ভাইরাল

প্রোটিন নয়, তিনবেলা ভাত খেয়েই সিক্স প্যাক! চেন্নাইয়ের এক শ্রমিকের ফিটনেস রুটিন ভাইরাল হয়ে প্রশ্ন তুলছে আধুনিক ডায়েট ট্রেন্ড নিয়ে।

ভাত খেয়েই ‘সিক্স প্যাক’! চেন্নাইয়ের শ্রমিকের শরীরচর্চা ভাইরাল

abs with rice diet

Published by: cloud_admin
  • Posted:April 17, 2026 9:36 am
  • Update:April 17, 2026 9:36 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : চেন্নাইয়ের এক সাধারণ নির্মাণ শ্রমিক, অথচ তাঁর শরীর যেন পেশাদার বডি বিল্ডারের মতো—এই অদ্ভুত বৈপরীত্যই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আধুনিক জিম কালচার, প্রোটিন শেক, সাপ্লিমেন্ট—এসবের বাইরে দাঁড়িয়ে এই শ্রমিক দেখিয়ে দিলেন, শরীর গড়ার আসল রহস্য (abs with rice diet) অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে সরল জীবনযাপন ও শৃঙ্খলার মধ্যে।

এই শ্রমিকের গল্প সামনে আসে এক ফিটনেস কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিওর মাধ্যমে। সেখানে দেখা যায়, দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি নিয়মিত জিম করে গড়ে তুলেছেন তিনি নিজের পেশীবহুল শরীর। কিন্তু তাঁর ফিটনেস রুটিনের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হল তাঁর খাদ্যাভ্যাস—যেখানে নেই কোনও জটিল ডায়েট চার্ট, নেই প্রোটিন পাউডার, নেই ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্ট। বরং রয়েছে একেবারে সাধারণ, ঘরোয়া খাবার।

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তিনি রাখেন শুধু সাদা ভাত—সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, এমনকি রাতের খাবারেও একই ভাত। সঙ্গে থাকে সাম্বর, রসম এবং বিভিন্ন সবজি যেমন বিট, গাজর ইত্যাদি। দক্ষিণ ভারতীয় জনপ্রিয় খাবার যেমন ইডলি বা দোসা তিনি এড়িয়ে চলেন। তাঁর কথায়, “আমি তিনবেলাই শুধু ভাত খাই।”

অবাক করার মতো বিষয়, তিনি নিয়মিত ফলও খুব কম খান এবং সপ্তাহে মাত্র একদিন মাটন খান—চিকেন বা মাছ প্রায় খানই না। অর্থাৎ প্রচলিত “হাই প্রোটিন ডায়েট”-এর ধারেকাছেও নেই তাঁর খাবার তালিকা। তবুও তাঁর শরীরের পেশীর গঠন এবং সংজ্ঞা দেখে অনেক ফিটনেস বিশেষজ্ঞও বিস্মিত।

তবে শুধু খাবার নয়, তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিনের বেলায় নির্মাণক্ষেত্রে কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করার পরও তিনি সপ্তাহে পাঁচদিন জিমে যান। তাঁর ওয়ার্কআউট রুটিন অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক—
সোমবার বুকের ব্যায়াম, মঙ্গলবার কাঁধ, বুধবার পিঠ, বৃহস্পতিবার বাইসেপস-ট্রাইসেপস এবং শুক্রবার পায়ের ব্যায়াম।

তবে নিজের কাজের কথা মাথায় রেখে তিনি পায়ের ব্যায়াম অতিরিক্ত করেন না, যাতে কাজের সময় সমস্যা না হয়। এই ভারসাম্যই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—তিনি কোনও ধরনের স্টেরয়েড বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করেন না। তাঁর মতে, শরীর গঠনের মূল মন্ত্র হল “খাও, কাজ করো, ঘুমাও”—এই তিনের সঠিক ভারসাম্য। তিনি প্রতিদিন প্রায় সাত ঘণ্টা ঘুমান এবং ধূমপান বা মদ্যপান সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলেন।

এই গল্পটি শুধু একটি ফিটনেস সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং আধুনিক ফিটনেস ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। যেখানে আজকাল শরীরচর্চা মানেই জিম মেম্বারশিপ, সাপ্লিমেন্ট, ডায়েট প্ল্যান—সেখানে এই শ্রমিক দেখিয়ে দিয়েছেন, শরীর গঠন আসলে অনেক বেশি নির্ভর করে ধারাবাহিকতা, পরিশ্রম এবং জীবনযাপনের উপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর শরীরের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে তাঁর দৈনন্দিন কঠোর শারীরিক শ্রম এবং উচ্চ কার্বোহাইড্রেট খাদ্যাভ্যাস, যা তাঁর শরীরকে পর্যাপ্ত শক্তি জোগায়। যদিও সবার জন্য এই ডায়েট উপযুক্ত নয়, কারণ প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজন আলাদা।

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—তাহলে কি প্রোটিন ডায়েট এতটা জরুরি? নাকি আমরা ফিটনেসকে অযথা জটিল করে ফেলেছি?

সব মিলিয়ে, চেন্নাইয়ের এই শ্রমিকের গল্প যেন এক শক্তিশালী বার্তা দেয়—ফিটনেস কোনও বিলাসিতা নয়, বরং এটি এক অভ্যাস। সঠিক খাদ্য, নিয়মিত পরিশ্রম এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন—এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় প্রকৃত শক্তি। আর সেই শক্তি কখনও কখনও সবচেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

More News