India Russia critical minerals pact
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: লিথিয়াম ও rare earth minerals-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে বড় চুক্তির পথে এগোচ্ছে ভারত। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই দেশ বর্তমানে এমন একটি প্রাথমিক চুক্তি (India Russia critical minerals pact) নিয়ে উন্নত পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে, যার আওতায় খনিজ অনুসন্ধান, প্রক্রিয়াকরণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সূত্রের খবর, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো চিনের উপর ভারতের নির্ভরতা কমানো। বর্তমানে বিশ্বে lithium এবং rare earth minerals সরবরাহ ও processing technology-র ক্ষেত্রে চিনের প্রভাব অত্যন্ত বেশি। বৈদ্যুতিক গাড়ি, সেমিকন্ডাক্টর, ব্যাটারি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে এই খনিজগুলির গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত ও রাশিয়া যৌথভাবে lithium এবং rare earth খনিজ অনুসন্ধান, refining technology এবং কর্পোরেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই ভারতের খনি মন্ত্রক রাশিয়ার কাছে একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই চুক্তি আগামী দু’মাসের মধ্যেই স্বাক্ষরিত হতে পারে বলেও সূত্রের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ভারতের জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে। সেই কারণে lithium-এর মতো ব্যাটারি নির্মাণে ব্যবহৃত ধাতুর চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে rare earth minerals আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প, প্রতিরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে ভারত Argentina, Australia, Japan, Brazil এবং Germany-এর সঙ্গেও critical minerals নিয়ে একাধিক সমঝোতা করেছে। পাশাপাশি Canada, Peru, Chile এবং Netherlands-এর সঙ্গেও আলোচনা চলছে। তবে বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য এখনও সীমিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, কয়েক মাস আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রাশিয়ার সহায়তায় Mali-তে lithium প্রকল্প থেকে সরে আসে ভারত। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে Rosatom-এর lithium প্রকল্পে ভবিষ্যতে আবারও আগ্রহ দেখাতে পারে নয়াদিল্লি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে critical minerals নিয়ে প্রতিযোগিতা এখন নতুন ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য চুক্তি শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।