Amit Shah Press Conference Bengal Election 2026
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গেল। কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah একাধিক বড় দাবি করলেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথম দফার ভোটেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে—রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে এবং বিজেপি বিপুল ব্যবধানে (Amit Shah Press Conference Bengal Election 2026) এগোচ্ছে।
অমিত শাহ দাবি করেন, প্রথম দফায় যে ১৫২টি আসনে ভোট হয়েছে, তার মধ্যে বিজেপি ১১০টির বেশি আসনে জয় পাবে। তাঁর কথায়, “ভোটাররা ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন—দিদি যাচ্ছেন, বিজেপি আসছে।” তিনি আরও বলেন, এবারের ভোটে রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে এবং তা বিজেপির পক্ষে জনসমর্থনেরই ইঙ্গিত। ভোটারদের এই বিপুল অংশগ্রহণকে তিনি ‘পরিবর্তনের বার্তা’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রেস কনফারেন্সে অমিত শাহ বিশেষভাবে জোর দেন ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশের উপর। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন পর এমন একটি নির্বাচন হয়েছে যেখানে বড় ধরনের হিংসা বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তাঁর মতে, এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক এবং নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়।
এছাড়াও তিনি বলেন, আগের নির্বাচনের তুলনায় এইবার সহিংসতা অনেকটাই কম। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনই প্রমাণ করছে যে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবেশ বদলাতে শুরু করেছে।তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ করে অমিত শাহ বলেন, “তৃণমূলের দুর্নীতি ও গুন্ডামির দিন শেষ হয়ে গেছে।” তিনি দাবি করেন, মানুষ এই সরকারে বিরক্ত এবং পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছেন।একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের ধন্যবাদ জানান এবং দ্বিতীয় দফার ভোটেও একইভাবে উৎসাহ নিয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ ভয় থেকে বেরিয়ে এসে বিশ্বাসের দিকে এগোচ্ছে”—এই পরিবর্তনই বিজেপির পক্ষে ইতিবাচক ফল আনবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম দফার ভোটের পর এই ধরনের আত্মবিশ্বাসী বক্তব্য স্বাভাবিক হলেও, এর মধ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে। বিজেপি প্রথম দফার ভোটকে নিজেদের পক্ষে ‘মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।তবে বিরোধী শিবির এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, এই ধরনের দাবি আসলে রাজনৈতিক প্রচারের অংশ এবং প্রকৃত ফলাফল ভোট গণনার দিনই স্পষ্ট হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গে রেকর্ড ভোটদানের হার দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক দলগুলির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। উচ্চ ভোটার উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এখন প্রত্যেক দলই নিজেদের পক্ষে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে, অমিত শাহর এই প্রেস কনফারেন্স নির্বাচনী লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলেছে। প্রথম দফার ভোটের পর বিজেপির এই আত্মবিশ্বাস এবং তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া—দুই মিলিয়ে বাংলার ভোট রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এখন নজর দ্বিতীয় দফার ভোট এবং শেষ পর্যন্ত গণনার ফলাফলের দিকে—যেখানে বোঝা যাবে, এই দাবিগুলি বাস্তবে কতটা সত্যি হয়।