Makhanlal Sarkar
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনার দিনে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তগুলির একটি তৈরি করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত নতুন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari-র শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ৯৭ বছরের প্রবীণ বিজেপি নেতা মাখনলাল সরকারের (Makhanlal Sarkar) পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন প্রধানমন্ত্রী। মুহূর্তের মধ্যেই সেই দৃশ্য ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক মাধ্যমে। রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর আলোচনা— কে এই মাখনলাল সরকার, যাঁকে এত সম্মান জানালেন দেশের প্রধানমন্ত্রী?
কে এই মাখনলাল সরকার?
উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা মাখনলাল সরকার বিজেপির অন্যতম প্রবীণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। বিজেপির জন্মেরও আগে, জনসংঘের সময় থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গ বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি ছিলেন জনসংঘ প্রতিষ্ঠাতা Syama Prasad Mookerjee-র ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন।
রাজনৈতিক মহলের দাবি, ১৯৫২ সালে কাশ্মীর অভিযানে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলেন মাখনলাল সরকার। শুধু তাই নয়, শ্যামাপ্রসাদের রহস্যমৃত্যুর সময় তাঁর শেষ যাত্রাতেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের সাক্ষী ছিলেন এই প্রবীণ নেতা।
উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর (Makhanlal Sarkar) ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার প্রথম বিজেপি জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাখনলাল সরকার। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংগঠনের তৃণমূল স্তরে কাজ করেছেন এবং বহু প্রজন্মের বিজেপি কর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছেন।
ব্রিগেডে আবেগঘন মুহূর্ত
বৃহস্পতিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হয় নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে বিজেপি নেতৃত্ব সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেই মঞ্চেই প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এগিয়ে গিয়ে মাখনলাল সরকারকে আলিঙ্গন করেন। এরপর তাঁর পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নেন প্রধানমন্ত্রী।
মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি হতেই তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে। বিজেপি সমর্থকদের একাংশ এই ঘটনাকে “সংগঠনের প্রবীণ সৈনিকদের প্রতি সম্মান” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার গঠনের মুহূর্তে পুরনো কর্মীদের সামনে এনে দল একটি আবেগঘন বার্তা দিতে চেয়েছে।
দেশাত্মবোধক গান গেয়ে গ্রেফতার!
বঙ্গ বিজেপি সভাপতি Samik Bhattacharya মাখনলাল সরকারের রাজনৈতিক জীবনের একটি পুরনো ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, কংগ্রেস আমলে দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল।
পরে আদালতে বিচারকের সামনে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হলে তিনি নাকি তা অস্বীকার করেন। বরং ফের দেশাত্মবোধক গান গেয়ে শোনান। সেই ঘটনার পর বিচারক তাঁকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেন বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের।
বিজেপির রাজনৈতিক বার্তা?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র আবেগের নয়, এর মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও। বাংলায় বিজেপির উত্থানের পেছনে যাঁরা দশকের পর দশক ধরে কাজ করেছেন, তাঁদের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই প্রতীকী পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষত, পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের সংগঠনভিত্তিক রাজনীতির মধ্যে বিজেপি এখন নিজেদের ঐতিহ্য ও পুরনো শিকড়কে সামনে আনতে চাইছে। মাখনলাল সরকারের মতো প্রবীণ নেতাকে কেন্দ্র করে সেই বার্তাই আরও জোরালো হয়েছে বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।