Sonia Gandhi Delimitation
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে ডিলিমিটেশন বা লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গ। এই ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi Delimitation)। তিনি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়াকে “সংবিধানের উপর আঘাত” বলে অভিহিত করেছেন এবং সরকারের তাড়াহুড়ো নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন।
একটি মতামত প্রবন্ধে সোনিয়া গান্ধী অভিযোগ করেন, কেন্দ্র সরকার ডিলিমিটেশনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া “অত্যন্ত বিপজ্জনক” এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ—বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই সরকার এগোচ্ছে। সোনিয়া গান্ধী দাবি করেন, বিরোধী দলগুলি একাধিকবার সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানালেও কেন্দ্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি “one-upmanship” এবং “my way or highway” মনোভাবের প্রতিফলন।
এই প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিরোধীরা মহিলাদের জন্য ৩৩% সংরক্ষণের বিরোধী নয়। বরং তাদের আপত্তি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া নিয়ে, বিশেষ করে ২০২৭ সালের জনগণনার আগে এই প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে। তাঁর মতে, জনগণনার নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া আসন পুনর্বিন্যাস করলে তা রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
আরও একধাপ এগিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী পাশ করানোর পরিকল্পনাকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তাঁর মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিস্তৃত জনমত ও রাজনৈতিক ঐক্যমত্য প্রয়োজন।
ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গে আরও একটি বড় বিষয় তুলে ধরেন তিনি—লোকসভা আসনের সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা। প্রস্তাব অনুযায়ী, আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮০০-র বেশি করা হতে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তন কীভাবে হবে এবং কোন সূত্রে আসন বণ্টন হবে, তা স্পষ্ট নয় বলে দাবি বিরোধীদের।
সোনিয়া গান্ধীর মতে, এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি caste census বিলম্বিত করার একটি কৌশলও হতে পারে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন, সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত দেশের ফেডারাল কাঠামোতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ডিলিমিটেশন ইস্যু এখন দেশের রাজনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে। সামনে সংসদের বিশেষ অধিবেশন এবং বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন—এই দুইয়ের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।