Trump Keir Starmer Iran War
ক্লাউড টিভি ডেস্ক | আন্তর্জাতিক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এবার প্রকাশ্যে দেখা দিল পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যকার মতবিরোধ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সরাসরি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer-কে কটাক্ষ করে বলেছেন, “This is not Winston Churchill we’re dealing with.” ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক (Trump Keir Starmer Iran War) শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপ এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেই উত্তেজনাই এই মন্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া তাকে হতাশ করেছে। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছিল, তখন ব্রিটিশ সরকার দ্রুত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত ছিল না। বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বিমান ব্যবহারের জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটির অনুমতি নিয়ে বেশ কিছুটা দেরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকদিন ধরে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, কারণ কোন ঘাঁটি ব্যবহার করা যাবে তা স্পষ্ট ছিল না। এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, ব্রিটেনের ঐতিহাসিক যুদ্ধকালীন নেতা Winston Churchill-এর সময়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চার্চিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনেই ট্রাম্প বর্তমান ব্রিটিশ নেতৃত্বের দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই বিতর্কের মূল কারণ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel-এর সামরিক পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল তাদের যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারুক। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি Diego Garcia ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার শুরুতে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং জানায় যে কোনও বড় সামরিক অভিযানের আগে আইনি ও কূটনৈতিক দিকগুলো স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
পরবর্তীতে ব্রিটেন সীমিতভাবে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিলেও তারা স্পষ্ট করে জানায় যে আকাশপথে হামলা চালিয়ে কোনও দেশের সরকার পরিবর্তনের নীতি তারা সমর্থন করে না। ব্রিটিশ সরকারের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে আন্তর্জাতিক আইন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক, যাকে প্রায়ই “special relationship” বলা হয়, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু দশক ধরে দুই দেশ প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক মতবিরোধ সেই সম্পর্কের উপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।
‘খামেনিকে আর বেঁচে থাকতে দেওয়া যাবে না’, সোরোকা হাসপাতালে ইরানের হামলার পর ইজরায়েলের সরাসরি হুমকি
পুতিন-জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদির বৈঠককে ‘লজ্জাজনক’ বলল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং পশ্চিমা জোটের অভ্যন্তরেও কৌশলগত বিভাজন সামনে এনে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিলেও ইউরোপের অনেক দেশ অপেক্ষাকৃত সতর্ক কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ বাড়ার পাশাপাশি পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যকার মতপার্থক্যও এখন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনগুলোতে এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন :
নিতীশ কি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন? রাজ্যসভায় যাওয়ার জল্পনায় উত্তাল বিহার রাজনীতি
সনিয়া-রাহুলের মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আক্রমণ, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিতে নীরবতার অভিযোগ