Yogi Adityanath Bishnupur Rally
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক | পলিটিক্স : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে এবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath। জনসভা (Yogi Adityanath Bishnupur Rally) থেকে তিনি সাফ বার্তা দেন—“এ বার খেলা শেষ, উন্নয়ন শুরু হবে।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি এবং উন্নয়ন—এই তিনটি ইস্যু, যেগুলিকে সামনে রেখেই বিজেপি বাংলায় ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য নিয়েছে।
সভামঞ্চ থেকে Yogi Adityanath তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, রাজ্যে একাধিক দুর্নীতির ঘটনা সামনে এলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, “যেখানে উন্নয়নের টাকা লুট হয়, সেখানে সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকতে পারে না।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন যোগী। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় অপরাধের হার বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সেখানে বিজেপি সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাংলাতেও সেই মডেল প্রয়োগ করা হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি “তুষ্টিকরণ রাজনীতি”-র অভিযোগ তুলে বলেন, এর ফলে সমাজে বিভাজন তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজ্যের ক্ষতি ডেকে আনবে।
উন্নয়নকে সামনে রেখে Yogi Adityanath বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে। তিনি উত্তরপ্রদেশের উন্নয়ন মডেলের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, সেই অভিজ্ঞতা বাংলায় প্রয়োগ করা হলে রাজ্যের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সভা থেকে তিনি বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে সংগঠন আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন এবং ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “পরিবর্তন চাইলে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিজেপি এই নির্বাচনে তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে লড়াইকে আরও তীব্র করতে চাইছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষ্ণুপুরের এই সভা শুধু একটি প্রচার কর্মসূচি নয়, বরং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।