Chandrayaan-3 Vikram lander hop moon soil
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: ভারতের Chandrayaan-3 মিশনের একটি ছোট পরীক্ষা এবার বড় বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পথ খুলে দিয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে অবতরণের পর Vikram Lander যে সংক্ষিপ্ত “হপ” বা লাফ দিয়েছিল, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই চাঁদের মাটির গঠন সম্পর্কে নতুন তথ্য (Chandrayaan-3 Vikram lander hop moon soil) উঠে এসেছে। এই হপ পরীক্ষায় ল্যান্ডারটি ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার সরে গিয়ে নতুন জায়গায় অবতরণ করে, ফলে বিজ্ঞানীরা একই অঞ্চলের দুটি আলাদা পয়েন্ট থেকে ডেটা সংগ্রহ করার সুযোগ পান।
এই হপের সময় ল্যান্ডারের ইঞ্জিন থেকে নির্গত গ্যাস চাঁদের উপরের ধুলোর স্তর বা রেগোলিথ উড়িয়ে দেয়, যার ফলে নিচের শক্ত ও ঘন স্তর উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, চাঁদের মাটির উপরের অংশ একরকম নয়, বরং এতে রয়েছে স্তরভেদে পার্থক্য। প্রায় ৬.৫ সেন্টিমিটার গভীরতা পর্যন্ত একটি দ্বিস্তরীয় গঠন পাওয়া গেছে—উপরের স্তরটি তুলনামূলকভাবে আলগা এবং তাপ পরিবাহিতা বেশি, আর নিচের স্তরটি বেশি ঘন এবং তাপ পরিবাহিতা কম। এই তথ্য চাঁদের পৃষ্ঠের তাপগত আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরীক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ChaSTE যন্ত্রের ব্যবহার, যার মাধ্যমে দিন-রাতের পরিবর্তনের সময় তাপমাত্রা মাপা হয়েছে। সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, চাঁদের পৃষ্ঠে তাপমাত্রার পরিবর্তন স্থানীয় ভূখণ্ড, ছায়া এবং সূর্যালোকের প্রভাবের উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, চাঁদের পরিবেশ একেবারেই একরকম নয়, বরং ছোট পরিসরেও তার বৈশিষ্ট্য বদলে যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযান, বিশেষ করে মানুষের বসবাস, রিসোর্স ব্যবহার এবং অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একটি ছোট “হপ” পরীক্ষাই যে এত বড় বৈজ্ঞানিক তথ্য দিতে পারে, Chandrayaan-3-এর এই সাফল্য তারই প্রমাণ।