Ayush Mhatre injury CSK controversy
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: আইপিএল ২০২৬-এ নতুন বিতর্ক। Chennai Super Kings-এর তরুণ ব্যাটার Ayush Mhatre-এর চোট সামলানোর পদ্ধতি নিয়ে উঠল গুরুতর প্রশ্ন। আর সেই বিতর্কে (Ayush Mhatre injury CSK controversy) সরাসরি কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার Ravichandran Ashwin।
শনিবার Sunrisers Hyderabad-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে ঘটে ঘটনাটি। রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চোট পান মথরে। হাঁটুতে স্ট্র্যাপ বেঁধে ব্যাট করতে নামলেও শুরু থেকেই তাঁর অস্বস্তি চোখে পড়ছিল। দৌড়ানোর সময় বারবার খুঁড়িয়ে যেতে দেখা যায় তাঁকে। তবুও মাঠ ছাড়ার বদলে তাঁকে ব্যাট চালিয়ে যেতে বলা হয়—এই সিদ্ধান্ত নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
ম্যাচ চলাকালীন একাধিকবার ফিজিও এসে তাঁকে পরীক্ষা করেন। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। তবুও তাঁকে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়। এমনকি অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড় তাঁকে দ্রুত সিঙ্গল নিতে ডাকেন—যা তাঁর চোটকে আরও বাড়িয়ে দেয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শেষ পর্যন্ত ৩০ রান করে আউট হন মথরে।
এই ঘটনাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অশ্বিন। নিজের ইউটিউব শো-তে তিনি সরাসরি বলেন, “কমেন্ট্রি বক্সে সবাই হতবাক হয়ে গিয়েছিল। কী হচ্ছে, তা দেখে বিশ্বাসই হচ্ছিল না।” তাঁর মতে, এতটা দৃশ্যমান চোট থাকা সত্ত্বেও একজন তরুণ ক্রিকেটারকে খেলতে বাধ্য করা সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূত।
অশ্বিন আরও প্রশ্ন তোলেন—মথরে কি ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ হওয়া উচিত ছিল না? তাঁর কথায়, “ও স্পষ্টভাবে খুঁড়িয়ে যাচ্ছিল। ফিজিও এসে দেখেছে। তবুও তাকে আবার খেলতে বলা হচ্ছে! এটা কীভাবে সম্ভব?”
শুধু অশ্বিনই নন, ক্রিকেট মহলের একাংশও এই সিদ্ধান্তকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে মনে করছে। কারণ, মথরে এই মরশুমে Chennai Super Kings-এর অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলকে ভরসা দিচ্ছিল। ফলে এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে চোটের ঝুঁকি নিয়েও খেলানো কতটা যুক্তিযুক্ত—তা নিয়েই বিতর্ক।
এদিকে, ম্যাচের পর জানা যায় মথরের চোট গুরুতর হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ‘হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে আরও বড় প্রশ্ন উঠছে—এটা কি শুধুই একটি ভুল সিদ্ধান্ত, নাকি দলের ভিতরে চোট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে? অশ্বিন ইঙ্গিত দিয়েছেন, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে খেলোয়াড়দের চোট সত্ত্বেও খেলানো হয়েছে।
আইপিএলের মতো উচ্চস্তরের প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে এমন সিদ্ধান্ত শুধু বিতর্কই নয়, ভবিষ্যতে দলের পারফরম্যান্সেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, মথরের চোট এখন শুধু একটি মেডিক্যাল ইস্যু নয়—এটি পরিণত হয়েছে একটি বড় ক্রিকেটীয় বিতর্কে। আগামী দিনে Chennai Super Kings কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলায় এবং মথরের চোট কতটা গুরুতর—সেদিকেই নজর এখন গোটা ক্রিকেট বিশ্বের।