ICC considering moving events from India
ক্লাউড টিভি ডেস্ক | স্পোর্টস : ভারত–পাকিস্তান রাজনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা International Cricket Council (ICC) নাকি গুরুতরভাবে বিবেচনা করছে—ভারত থেকে ভবিষ্যতের একাধিক বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম The Age–এর একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি (ICC considering moving events from India) করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, যার আয়োজক ভারত, এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, যা ভারত ও বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করার কথা—এই দুই টুর্নামেন্টই ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ভারত ও পাকিস্তান–এর রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং তার ফলে তৈরি হওয়া জটিল লজিস্টিক পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর থেকে ভারত ও পাকিস্তান কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেনি। শুধু তাই নয়, আইসিসি বা এসিসি টুর্নামেন্ট হলেও একে অপরের দেশে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছুক এই দুই দেশ। আইসিসির সঙ্গে করা এক চুক্তি অনুযায়ী, কোনও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে গিয়ে ম্যাচ খেলবে না—এই শর্ত মানতে হয় আয়োজকদের।
এই বিশেষ ব্যবস্থার ফলেই সমস্যায় পড়ছে আইসিসি। দ্য এজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের জন্য আলাদা ভেন্যু, অতিরিক্ত ভ্রমণ, বাড়তি হোটেল খরচ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন পড়ে। ফলে প্রতিটি টুর্নামেন্টে আইসিসির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা নাকি ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদন আরও বলছে, ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে এই ‘নো ট্রাভেল’ চুক্তি কার্যকর রয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে মনে করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও চলতে পারে। আর সেই কারণেই আইসিসি চাইছে না বারবার বিশেষ ব্যবস্থায় টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারত থেকে যদি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বা ওয়ানডে বিশ্বকাপ সরিয়ে নেওয়া হয়, তাহলে আয়োজক হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবে অস্ট্রেলিয়া—এমনটাই দাবি করেছে দ্য এজ। ক্রিকেট পরিকাঠামো, নিরাপত্তা ও লজিস্টিক সুবিধার নিরিখে অস্ট্রেলিয়াকে তুলনামূলকভাবে ‘ঝুঁকিমুক্ত বিকল্প’ হিসেবে দেখছে আইসিসি—এমন ইঙ্গিত মিলছে প্রতিবেদনে।
এই বিতর্কের মাঝেই আরও একটি ঘটনা আইসিসিকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে আয়োজিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তৈরি হয় প্রবল আলোড়ন।
বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান সরকারও। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনতে সক্ষম হয় আইসিসি। তবে এই গোটা ঘটনাপ্রবাহ আইসিসির কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছে—ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্বকে উপেক্ষা করে বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে ভারতের অস্বীকৃতি, সরাসরি ফাইনালে পাকিস্তান
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসির কাছে বাণিজ্যিক দিক যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই সমান গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের নির্বিঘ্ন আয়োজন। বারবার রাজনৈতিক টানাপোড়েনে পড়লে সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পনসর এবং দর্শকদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যায়। সেই কারণেই ভবিষ্যতে আয়োজক দেশ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আইসিসি আরও ‘কৌশলী’ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
যদিও এখনই ভারত থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইসিসির অন্দরমহলে আলোচনা চলছে মাত্র। শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সদস্য বোর্ডগুলির সম্মতি এবং বাণিজ্যিক সমীকরণের উপর।
সব মিলিয়ে, ভারত–পাকিস্তান দ্বন্দ্ব শুধু মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। তার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আয়োজকত্ব, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক ক্রীড়া রাজনীতিতেও। ভারত থেকে সত্যিই যদি আইসিসির বড় টুর্নামেন্ট সরে যায়, তাহলে তা হবে ক্রিকেট দুনিয়ার এক বড় মোড়বদল।
আরও পড়ুন :
পাক দলকে হোটেলে রান্নাঘর পরিষ্কার করতে হল, ফেডারেশন বিল না মেটানোয় মাজতে হল বাসনও!
ওমর ফারুক ব্যাপারি : কোচবিহারে বাংলাদেশি নাগরিক অপরিচিতকে ‘বাবা’ বানিয়ে গ্রেফতার