Neymar Brazil Comeback 2026
ক্লাউড টিভি ডেস্ক | স্পোর্টস : আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল ফুটবলে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম Neymar Jr। দীর্ঘদিন চোট ও ফিটনেস সমস্যার কারণে জাতীয় দল থেকে দূরে থাকা এই তারকার সামনে এখন সময় খুবই সীমিত। আগামী ১২টি দিনই ঠিক করে দিতে পারে তিনি আবার ব্রাজিলের জার্সিতে ফিরতে (Neymar Brazil Comeback 2026) পারবেন কি না।
কারণ, ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন কোচ Carlo Ancelotti বিশ্বকাপের আগে শেষ আন্তর্জাতিক উইন্ডোর জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করবেন ১৬ মার্চ। সেই ঘোষণার আগে কোচিং স্টাফ সম্ভাব্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ও ফিটনেস ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আর সেই তালিকাতেই আবার উঠে এসেছে নেইমারের নাম।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম UOL-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেইমারের জাতীয় দলে ফেরা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর। কোচ আনচেলত্তি পরিষ্কার করে দিয়েছেন—ফিটনেস নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। আন্তর্জাতিক ম্যাচের উচ্চগতির ফুটবলে টিকে থাকতে হলে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে শতভাগ ফিট থাকতে হবে।
নেইমারের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ম্যাচ খেলার সুযোগের অভাব। তার ক্লাব Santos FC ইতিমধ্যেই ছিটকে গেছে Campeonato Paulista থেকে। ফলে নিয়মিত ম্যাচ খেলে নিজের ফিটনেস দেখানোর সুযোগ খুব কম।
এখন তার হাতে রয়েছে মাত্র দুটি ম্যাচ।
১০ মার্চ – মিরাসলের বিরুদ্ধে
১৫ মার্চ – করিন্থিয়াসের বিরুদ্ধে
এই দুই ম্যাচেই তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি আবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাপ সামলানোর মতো ফিট ও প্রস্তুত। বিশেষ করে স্প্রিন্ট, হাই-ইনটেনসিটি রান, ড্রিবলিং এবং ম্যাচের গতি ধরে রাখার মতো শারীরিক সূচকগুলোই নজরে রাখছে ব্রাজিল দলের টেকনিক্যাল কমিটি।
নেইমারের সামনে সুযোগ তৈরি হয়েছে মূলত ব্রাজিল দলের আক্রমণভাগে চোটের সমস্যার কারণে। Rodrygo, যিনি বর্তমানে Real Madrid-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরোয়ার্ড, হাঁটুর গুরুতর লিগামেন্ট ইনজুরিতে পড়েছেন। এই চোটের কারণে তিনি চলতি মৌসুমের বাকি অংশের পাশাপাশি বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায়।
অন্যদিকে চেলসির তরুণ প্রতিভা Estevão Willian-এর পেশির চোট থেকেও পুরোপুরি সেরে ওঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে আক্রমণভাগে বিকল্প কমে যাওয়ায় নেইমারের জন্য দরজা কিছুটা খুলে গেছে।
তবে সবকিছুর মাঝেও নেইমারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তার ফিজিক্যাল মেট্রিক্স। জাতীয় দলের বিশ্লেষকরা গত এক বছরে তার ম্যাচ ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছেন—স্পিড, প্রেসিং এবং হাই-ইনটেনসিটি রানিংয়ের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূচকে তিনি প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে ছিলেন।
কোচ আনচেলত্তির মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ফুটবলে টিকে থাকতে হলে প্রতিটি খেলোয়াড়কে মেডিক্যালি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং শারীরিকভাবে সর্বোচ্চ অবস্থায় থাকতে হবে।
একই দিনে জন্মদিন রোনাল্ডো ও নেইমারের ৪১ বছরে পা রাখলেন রোনাল্ডো , ৩৪ বছরে নেইমার
এখনই ইউরোপে ফেরা নয়, সান্তোসেই থাকছেন নেইমার আরও কিছুদিন — নতুন চুক্তি করলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার
তবে নেইমারের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া তাকে আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। গত কয়েক মাস ধরে তিনি নিয়মিত ট্রেনিং করছেন এবং শারীরিকভাবে আগের তুলনায় অনেকটাই স্বচ্ছন্দ বোধ করছেন।
এই কারণেই অনেক ফুটবল বিশ্লেষকের মতে, মার্চের এই দুটি ম্যাচ নেইমারের ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।
২৬ ও ৩১ মার্চ ব্রাজিলের দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ রয়েছে—
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে
ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে
এই ম্যাচগুলোর জন্য ঘোষিত স্কোয়াডেই নেইমারের ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করছে। কারণ মার্চের স্কোয়াডে জায়গা না পেলে মে মাসে ঘোষিত চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে তার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, আগামী ১২ দিনই ঠিক করে দিতে পারে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ‘নাম্বার ১০’ আবার জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরবেন কি না।
আরও পড়ুন :
বিশ্বকাপের মাঝেই কেকেআরের জন্য সুখবর! অ্যালেন–সেইফার্ট জুটি দেখাল আশা
রিসেপশনে একেবারে ভিন্ন সাজে চমক! বিজয়–রশ্মিকার নতুন লুক ঘিরে চর্চা