WB Budget Session 2026
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। শুক্রবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই অধিবেশনকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (WB Budget Session 2026) বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই অধিবেশনেই রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল, আর্থিক প্রস্তাব এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের অধিবেশন কয়েকদিন ধরে চলতে পারে এবং সেখানে বিভিন্ন দপ্তরের অতিরিক্ত বরাদ্দ, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাব আনা হতে পারে। পাশাপাশি কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক, বকেয়া অর্থ, ১০০ দিনের কাজ এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুতেও সরকার সরব হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটাই হতে চলেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনগুলির একটি। ফলে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। বিশেষ করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ইস্যুতে বিরোধীরা সরকারকে চাপে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে “বকেয়া টাকা আটকে রাখা” ইস্যু আবারও জোরালোভাবে তোলা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিপুল টাকা এখনও বকেয়া রয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে উন্নয়নমূলক কাজে। সেই বিষয়টি বিধানসভাতেও জোরালোভাবে তুলে ধরা হতে পারে।
এবারের বাজেট অধিবেশনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। সাম্প্রতিক সময়ে NEET বিতর্ক, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রভাবও অধিবেশনে পড়তে পারে। আর জি কর কাণ্ডের জেরেও বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হতে পারে সরকারকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের অধিবেশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে। রাজ্য সরকার বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত আর্থিক পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করতে পারে বলে জল্পনা চলছে।
এদিকে বিধানসভা অধিবেশন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে বিধানসভা চত্বর এবং আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই দাবি করেছে, এই অধিবেশনে তারা দুর্নীতি, শিক্ষক নিয়োগ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সরব হবে। বিজেপি ও বাম-কংগ্রেস জোট উভয়েই সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কৌশল নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
অন্যদিকে শাসকদলের বক্তব্য, রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রকল্প, শিল্প বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরা হবে অধিবেশনে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণের বিষয়েও সরকার নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বাজেট অধিবেশন শুধু প্রশাসনিক বা আর্থিক আলোচনা নয়, বরং নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষার মঞ্চও হতে চলেছে। ফলে অধিবেশন ঘিরে আগামী কয়েক সপ্তাহ রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।