AI Influencer Scam India
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI এখন শুধু প্রযুক্তির জগতে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সরাসরি প্রভাব ফেলছে রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে। সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক ভারতীয় মেডিক্যাল ছাত্র AI ব্যবহার করে তৈরি করেছেন এক ভুয়ো নারী ইনফ্লুয়েন্সার (AI Influencer Scam India), আর সেই অ্যাকাউন্ট থেকেই আয় করেছেন হাজার হাজার ডলার।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২২ বছর বয়সী এক ভারতীয় মেডিক্যাল ছাত্র “Emily Hart” নামে একটি AI-জেনারেটেড চরিত্র তৈরি করেন। এই চরিত্রটি দেখতে অনেকটাই হলিউড অভিনেত্রী Jennifer Lawrence এবং Sydney Sweeney-এর মতো করে ডিজাইন করা হয়েছিল।
এই ভুয়ো ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারকে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান বা ‘MAGA’ সমর্থকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। বন্দুক চালানো, বিয়ার খাওয়া, দেশপ্রেমমূলক পোস্ট—সবকিছুই ছিল পরিকল্পিতভাবে সাজানো।
শুধু তাই নয়, এই AI চরিত্রের মাধ্যমে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে ছবি ও কনটেন্ট বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা রোজগার করেন ওই ছাত্র। জানা গেছে, প্রতিদিন মাত্র এক ঘণ্টা সময় দিয়েই তিনি এই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন এবং কয়েক হাজার ডলার আয় করতে সক্ষম হন।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হল, ওই ছাত্র নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি মার্কিন রিপাবলিকান সমর্থকদের “সহজে প্রভাবিত” করা যায় বলে মনে করতেন এবং সেই কারণেই তাদের টার্গেট করেন।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনেকেই বলছেন, AI প্রযুক্তির অপব্যবহার করে এই ধরনের ভুয়ো পরিচয় তৈরি করা গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি বড় উদাহরণ যে কীভাবে Deepfake এবং জেনারেটিভ AI ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা সম্ভব। বর্তমানে AI দিয়ে ছবি, ভিডিও এমনকি কণ্ঠস্বরও বাস্তবের মতো করে তৈরি করা যায়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে চেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।
এই ধরনের ঘটনায় শুধু অর্থনৈতিক প্রতারণাই নয়, রাজনৈতিক মতামতও প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন বা মতাদর্শভিত্তিক প্রচারে AI-চালিত ভুয়ো ইনফ্লুয়েন্সার ব্যবহার হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অ্যাকাউন্টটি পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ততদিনে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ভুয়ো চরিত্রের কনটেন্ট দেখে ফেলেছেন এবং অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—AI শুধু সুযোগই নয়, বড় ধরনের ঝুঁকিও তৈরি করছে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার যেমন উন্নয়ন আনতে পারে, তেমনই অপব্যবহার সমাজে বিভ্রান্তি ও প্রতারণার নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।