Condom Price Hike Iran War
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে এবার সরাসরি প্রভাব পড়ল দৈনন্দিন জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে। ইরান-আমেরিকা সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে কন্ডোমের দাম বাড়তে চলেছে, এমনটাই জানাল বিশ্বের বৃহত্তম কন্ডোম প্রস্তুতকারী সংস্থা Karex। সংস্থার দাবি, কাঁচামালের সরবরাহ ভেঙে পড়ায় তারা তাদের পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে (Condom Price Hike Iran War) বাধ্য হচ্ছে।
বিশ্বের প্রায় ৫ বিলিয়ন কন্ডোম উৎপাদন করে এই মালয়েশিয়ান সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক বাজারে একাধিক বড় ব্র্যান্ডের প্রধান সরবরাহকারী। ফলে Karex-এর এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বেই।
মূল সমস্যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা। বিশেষ করে Strait of Hormuz—যা দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবাহিত হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর ফলে কন্ডোম তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল—যেমন সিন্থেটিক রাবার, সিলিকন তেল এবং বিভিন্ন রাসায়নিক—সরবরাহে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
শুধু কাঁচামাল নয়, পরিবহন খরচও ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বাড়ায় বীমা খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, পাশাপাশি বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে পণ্য পরিবহনের সময় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এই সব মিলিয়েই উৎপাদন খরচ বাড়ছে হু হু করে।
অন্যদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে এই সংকটের মাঝেই কন্ডোমের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই পরিবার পরিকল্পনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। দেশের কন্ডোম শিল্প ইতিমধ্যেই কাঁচামালের ঘাটতিতে ভুগছে। বিশেষ করে সিলিকন তেল ও অ্যামোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিল্প মহলের একাংশ মনে করছে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতে কন্ডোমের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে শুধু সাধারণ ক্রেতার উপর চাপ বাড়বে না, বরং সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলিও বড় ধাক্কার মুখে পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এটি কেবল একটি পণ্যের সমস্যা নয়—বরং একটি বড় অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত। কারণ কন্ডোম তৈরির কাঁচামাল যেহেতু পেট্রোকেমিক্যাল নির্ভর, তাই তেলের বাজারে অস্থিরতা সরাসরি এর উপর প্রভাব ফেলছে। একইভাবে অন্যান্য বহু শিল্পও এই সংকটে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই—তা পৌঁছে গেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দিনে আরও বহু পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।