• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Iran tanker attack Hormuz

হরমুজে ফের গুলি! ইরানের গানবোটের হামলায় উত্তেজনা চরমে

হরমুজ প্রণালীতে ট্যাঙ্কারের উপর গুলি চালাল ইরানের গানবোট। ক্রুরা নিরাপদ থাকলেও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

হরমুজে ফের গুলি! ইরানের গানবোটের হামলায় উত্তেজনা চরমে

Iran tanker attack Hormuz

Published by: cloud_admin
  • Posted:April 18, 2026 11:58 am
  • Update:April 18, 2026 11:58 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি যেন থামার নামই নিচ্ছে না। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ Strait of Hormuz-এ আবারও ঘটল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের উপর গুলি (Iran tanker attack Hormuz) চালাল ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডের দুইটি গানবোট। তবে স্বস্তির খবর—এই ঘটনায় জাহাজের ক্রু সদস্যরা সবাই নিরাপদ আছেন।

যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা UK Maritime Trade Operations (UKMTO)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে ওমান উপকূলের কাছাকাছি, প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে। ট্যাঙ্কারের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, হঠাৎ করেই ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর দুটি গানবোট জাহাজটির কাছে আসে এবং কোনও রেডিও সতর্কবার্তা ছাড়াই গুলি চালায়।

এই হামলার পরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, কয়েকদিন আগেই ইরান ঘোষণা করেছিল যে তারা আবার হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, “খোলা” ঘোষণার পরও এই জলপথ কার্যত সামরিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা নিছক একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের অংশ। Iran ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে—যতদিন United States তাদের বন্দরগুলিতে নৌ অবরোধ বজায় রাখবে, ততদিন হরমুজে চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখবে তারা।

এই পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে যেকোনও ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বা অনিশ্চয়তা সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

এই ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল—কোনও সতর্কতা ছাড়াই গুলি চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। সাধারণত আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই ধরনের পরিস্থিতিতে আগে রেডিও যোগাযোগ বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে তা হয়নি বলেই জানিয়েছে জাহাজের ক্যাপ্টেন।

যদিও এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই, তবুও এটি একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এর আগে একই অঞ্চলে একাধিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ফলে সাম্প্রতিক এই হামলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা।

কূটনৈতিক স্তরেও এই ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনার চেষ্টা চলছে, তবে এই ধরনের ঘটনা সেই আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালী এখন আবারও এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। “খোলা” ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এটি একটি উচ্চ-ঝুঁকির সামরিক অঞ্চল হয়ে উঠেছে।

শেষ পর্যন্ত, এই উত্তেজনা কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক কূটনীতির উপর। তবে আপাতত একটি বিষয় পরিষ্কার—হরমুজে নিরাপত্তা এখনও বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে।

More News