• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Lahori Zeera success story

১০ টাকার বোতল থেকে ৮০০ কোটির ব্যবসা—‘লাহোরি জিরা’-র উত্থানের গল্প

মাত্র ১০ টাকার পানীয় Lahori Zeera আজ ৮০০ কোটির ব্যবসা। দেশীয় স্বাদ আর সঠিক কৌশলেই তৈরি হয়েছে এই সাফল্যের গল্প।

১০ টাকার বোতল থেকে ৮০০ কোটির ব্যবসা—‘লাহোরি জিরা’-র উত্থানের গল্প

Lahori Zeera success story

Published by: cloud_admin
  • Posted:April 18, 2026 8:20 am
  • Update:April 18, 2026 8:20 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : ভারতের সফট ড্রিঙ্কস বাজারে বহুদিন ধরেই আধিপত্য ছিল আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির। কিন্তু সেই জায়গাতেই নিঃশব্দে এক বিপ্লব ঘটিয়েছে একেবারে দেশীয় স্বাদের একটি পানীয়—Lahori Zeera। মাত্র ১০ টাকার একটি বোতল থেকে শুরু করে কয়েকশো কোটি টাকার সংস্থায় পরিণত হওয়ার এই গল্প শুধু ব্যবসার নয়, বরং ভারতীয় স্বাদের প্রত্যাবর্তনের (Lahori Zeera success story) গল্প।

২০১৭ সালে পাঞ্জাবের তিন তুতভাই —Saurabh Munjal, Saurabh Bhutna এবং Nikhil Doda—এই ব্র্যান্ডটি শুরু করেন। তাঁদের লক্ষ্য ছিল একটাই—ভারতের ঐতিহ্যবাহী পানীয় যেমন জিরা, কালা নুন, লেবুর স্বাদকে আধুনিক বোতলে ভরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

শুরুটা হয়েছিল একেবারেই ছোট পরিসরে। এমনকি প্রথম দিকে তারা সেকেন্ড-হ্যান্ড মেশিন কিনে সেটি মেরামত করে উৎপাদন শুরু করেছিলেন। স্থানীয় দোকানদার, কলেজ ছাত্র, অটোচালকদের দিয়ে টেস্ট করিয়ে ধীরে ধীরে রেসিপি নিখুঁত করা হয়।

এই ব্র্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল “নস্টালজিয়া”—অর্থাৎ শৈশবের স্বাদ। ভারতের ছোট শহর বা গ্রামে বড় হওয়া মানুষদের কাছে জিরা, লেবু, কালা নুনের মিশ্রণে তৈরি পানীয় খুব পরিচিত। সেই স্বাদই ফিজি ড্রিঙ্ক হিসেবে বোতলবন্দি করে বাজারে আনা হয়।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল দাম। ১৬০ মিলিলিটারের বোতল মাত্র ১০ টাকায় পাওয়া যেত—যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। ফলে দ্রুত বাজারে জনপ্রিয়তা পায় এই পানীয়।

কিন্তু শুধু স্বাদ বা দাম নয়, এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বাজার বোঝার দক্ষতা। বড় বড় ব্র্যান্ড যেখানে বিজ্ঞাপনে কোটি কোটি টাকা খরচ করে, সেখানে Lahori Zeera মূলত ডিস্ট্রিবিউশন বা পৌঁছনোর উপর জোর দেয়। ছোট দোকান, ধাবা, লোকাল মার্কেট—সব জায়গায় সহজলভ্য করে তোলে তাদের পণ্য।

ফলাফলও আসে দ্রুত। ২০২৪ অর্থবর্ষে যেখানে সংস্থার আয় ছিল প্রায় ৩১২ কোটি টাকা, সেটি ২০২৬ সালে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭৭৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ কয়েক বছরের মধ্যেই প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি।

শুধু একটি পণ্যেই থেমে থাকেনি এই সংস্থা। Lahori Shikanji, Lahori Nimboo, Lahori Kacha Aam, Lahori Imli—এই সব নতুন ফ্লেভার বাজারে এনে তারা নিজেদের পোর্টফোলিও বাড়িয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন স্বাদের গ্রাহকদেরও আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়েছে।

“লাহোরি” নামটি নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। পাকিস্তানের লাহোর শহরের সঙ্গে পাঞ্জাবের সাংস্কৃতিক মিলকে তুলে ধরতেই এই নাম বেছে নেওয়া হয়। অর্থাৎ নামের মধ্যেও রয়েছে এক ধরনের আবেগ ও ঐতিহ্যের সংযোগ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, Lahori Zeera-র সাফল্যের মূল কারণ তিনটি—
প্রথমত, লোকাল স্বাদের উপর জোর
দ্বিতীয়ত, কম দামে বেশি গ্রাহক
তৃতীয়ত, শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক

এই তিনটি বিষয়ই তাদেরকে আন্তর্জাতিক সফট ড্রিঙ্ক ব্র্যান্ডগুলির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দিয়েছে।

আজ Lahori Zeera শুধু একটি পানীয় নয়, বরং একটি ব্র্যান্ড—যা প্রমাণ করে, ভারতীয় স্বাদ যদি সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়, তাহলে তা বিশ্বমানের ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, এই গল্প আমাদের একটা বড় শিক্ষা দেয়—বড় আইডিয়া সবসময় জটিল হতে হবে না। কখনও কখনও সাধারণ একটি স্বাদ, একটি স্মৃতি—ঠিকভাবে পরিবেশন করলেই তৈরি হতে পারে কয়েকশো কোটির ব্যবসা।

More News