• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Indian Human Smuggling Ring in US

আমেরিকায় মানব পাচার চক্রে ভারতীয় যুবক! ২২ বছরের শিবমকে ঘিরে চাঞ্চল্য

আমেরিকায় মানব পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার ২২ বছরের ভারতীয় যুবক শিবম। মাথাপিছু ১০০ ডলারের বিনিময়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর অভিযোগে তদন্তে নেমেছে মার্কিন সংস্থা। সামনে আসছে আন্তর্জাতিক পাচার নেটওয়ার্কের চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আমেরিকায় মানব পাচার চক্রে ভারতীয় যুবক! ২২ বছরের শিবমকে ঘিরে চাঞ্চল্য

Indian Human Smuggling Ring in US

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 15, 2026 7:13 am
  • Update:May 15, 2026 7:13 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আমেরিকায় অবৈধ মানব পাচার চক্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ২২ বছরের এক ভারতীয় যুবক। অভিযুক্তের নাম শিবম বলে জানিয়েছে মার্কিন তদন্তকারী সংস্থা। অভিযোগ, অবৈধভাবে সীমান্ত পার করিয়ে আমেরিকায় প্রবেশ করানোর জন্য মাথাপিছু ১০০ ডলার করে নেওয়া হত। এই ঘটনায় (Indian Human Smuggling Ring in US) নতুন করে সামনে এল আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও তদন্তকারী সূত্রের দাবি, শিবম একটি বৃহত্তর পাচার চক্রের অংশ ছিল, যারা মূলত দক্ষিণ এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করাতে সাহায্য করত। বিশেষ করে মেক্সিকো সীমান্ত ব্যবহার করে বহু মানুষকে গোপনে আমেরিকায় ঢোকানোর অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চক্রে একাধিক স্তরে কাজ চলত। কেউ যোগাযোগ রক্ষা করত, কেউ পরিবহণের ব্যবস্থা করত, আবার কেউ সীমান্ত এলাকায় লোকজনকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিত। সেই চক্রেরই এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উঠে এসেছে শিবমের নাম।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় ১০০ ডলার করে নেওয়া হত বলে অভিযোগ। যদিও তদন্তকারী সংস্থার মতে, পুরো নেটওয়ার্কে আরও বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে। কারণ সীমান্ত পেরিয়ে আমেরিকায় পৌঁছনোর পর বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয়, পরিবহণ ও নথি জোগাড়ের জন্য আলাদা করে অর্থ নেওয়া হত।

আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে এই তদন্ত চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে পুরো নেটওয়ার্ক পরিচালিত হত। বিভিন্ন দেশে বসে পাচারকারীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখত বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, শিবম খুব অল্প বয়সেই এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিল। কীভাবে সে এই নেটওয়ার্কে ঢুকল, তার পিছনে আরও কারা রয়েছে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে এর কোনও শাখা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আমেরিকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষ দালালচক্রের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় “সহজে আমেরিকা পৌঁছনোর” প্রলোভন দেখিয়ে বহু মানুষকে টার্গেট করা হয়। পরে তাঁদের বিপজ্জনক রুটে সীমান্ত পার করানো হয়, যেখানে প্রাণহানির আশঙ্কাও থেকে যায়।

এই ঘটনা সামনে আসতেই ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ গত কয়েক বছরে আমেরিকা ও কানাডায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের নাম একাধিকবার সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান, দ্রুত বিদেশে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার সুযোগ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক পাচার চক্র।

ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, আমেরিকার পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নেওয়া হতে পারে। যদি তদন্তে ভারতীয় মাটিতে সক্রিয় কোনও নেটওয়ার্কের যোগ পাওয়া যায়, তবে দুই দেশের তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে যৌথ অভিযানও হতে পারে।

মানব পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে এখন পাচারকারীরা আরও দ্রুত এবং গোপনে কাজ করতে পারছে। ফলে শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, সাইবার নজরদারিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

More News