Lawrence Bishnoi Digital Extortion
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : ভারতের অপরাধ জগতে নতুন ও ভয়ঙ্কর ট্রেন্ডের ইঙ্গিত মিলছে। কুখ্যাত গ্যাংস্টার Lawrence Bishnoi-এর গ্যাং এখন শুধু বন্দুকের জোরে নয়, বরং প্রযুক্তি ও ডেটার সাহায্যে গড়ে তুলেছে এক সুসংগঠিত “ডিজিটাল এক্সটর্শন সাম্রাজ্য” (Lawrence Bishnoi Digital Extortion)।
তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গ্যাং সরকারি ডেটাবেস—বিশেষ করে GST এবং RERA-র তথ্য ব্যবহার করে তাদের টার্গেট ঠিক করছে। ব্যবসায়ীদের আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তির মূল্য, এবং ব্যবসার পরিধি বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্টভাবে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বেছে নেওয়া হচ্ছে। ফলে এলোমেলো নয়, বরং অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির কাজ চালানো হচ্ছে।
এই গ্যাংয়ের কার্যপ্রণালী অনেকটা কর্পোরেট সংস্থার মতো। একটি দল শুধু ডেটা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ করে, অন্য দল ফোন বা মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দেয়, আর তৃতীয় দল প্রয়োজনে হামলা চালায়। এতে পুরো অপারেশনটি আরও সংগঠিত ও কার্যকর হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না হওয়ায় তাঁর উপর গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাই প্রমাণ করে, গ্যাংটি শুধু ডিজিটাল হুমকিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রয়োজনে সরাসরি সহিংসতায়ও নামতে দ্বিধা করছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই চক্রে কিশোরদেরও যুক্ত করা হচ্ছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রাখে, যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানো যায়। ফলে এই অপরাধ চক্রটি আরও দ্রুত বিস্তার লাভ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের অপরাধ জগতের একটি নতুন মডেল—“ডেটা-ড্রিভেন ক্রাইম”। আগে যেখানে চাঁদাবাজি অনেকটা এলোমেলো ছিল, এখন সেখানে তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্দিষ্ট টার্গেট বেছে নেওয়া হচ্ছে। এতে অপরাধের সাফল্যের হার যেমন বাড়ছে, তেমনই ভুক্তভোগীদের পক্ষে প্রতিরোধ করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এই মডেল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, এটি শুধুমাত্র একটি গ্যাং নয়—বরং প্রযুক্তি, তথ্য এবং সহিংসতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক আধুনিক অপরাধ নেটওয়ার্ক। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।