Nusrat Jahan ED Inquiry
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: আবারও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি টলিউড অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ Nusrat Jahan। বুধবার কলকাতার CGO Complex-এ হাজিরা দিলেন তিনি, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তলবে। বহুল আলোচিত একটি হাউজিং প্রতারণা মামলার তদন্তে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা (Nusrat Jahan ED Inquiry) হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, রাজারহাট এলাকার একটি আবাসন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তেই উঠে আসে একাধিক প্রভাবশালী নাম, যার মধ্যে রয়েছেন নুসরত জাহানও।
উল্লেখ্য, এই একই মামলায় এর আগেও ২০২৩ সালে দীর্ঘ সময় ধরে জেরা করা হয়েছিল তাঁকে। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা সেই জেরায় বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন ও সংস্থার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এবার নতুন করে কিছু তথ্য সামনে আসায় ফের তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শুরু থেকেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন নুসরত। তাঁর দাবি, তিনি নিজেও এই প্রকল্পের একজন ‘ভিকটিম’ বা ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কোনওভাবেই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন এবং আইন অনুযায়ী তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। সিজিও কমপ্লেক্সে ঢোকার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, “আমি আইনকে সম্মান করি, যা জিজ্ঞাসা করা হবে তার উত্তর দেব।”
এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে এই ধরনের তদন্তের গতি বাড়ানো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। অন্যদিকে শাসকদলের তরফে দাবি করা হয়েছে, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে এবং দোষী প্রমাণিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের আর্থিক প্রতারণার মামলায় তদন্ত দীর্ঘমেয়াদি হয় এবং নতুন তথ্য বা প্রমাণ সামনে এলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবার তলব করা হতে পারে। ফলে নুসরতের এই হাজিরা তদন্ত প্রক্রিয়ারই একটি স্বাভাবিক ধাপ বলেই মনে করছেন অনেকে।
এদিকে, এই মামলায় জড়িত সংস্থার আর্থিক লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের টাকা কোথায় গিয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে কী কী গড়মিল হয়েছে—সেই সব দিক খতিয়ে দেখছে ED। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।
সব মিলিয়ে, টলিউডের জনপ্রিয় মুখ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—নুসরত জাহানের এই আইনি জটিলতা এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। তদন্তের অগ্রগতি কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।