• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Sujit Bose arrest municipality recruitment scam

পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার সুজিত বসু, তোলপাড় বাংলার রাজনীতি

পশ্চিমবঙ্গের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় পদক্ষেপ করল ED। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক পুরসভায় বেআইনি নিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে গ্রেফতার সুজিত বসু, তোলপাড় বাংলার রাজনীতি

Sujit Bose arrest municipality recruitment scam

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 11, 2026 4:16 pm
  • Update:May 11, 2026 4:16 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বড় পদক্ষেপ করল Enforcement Directorate (ED)। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী Sujit Bose-কে সোমবার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সল্টলেকের CGO কমপ্লেক্স থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে ED সূত্র (Sujit Bose arrest municipality recruitment scam)।

এই গ্রেফতারির পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। কারণ সুজিত বসু দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা সংলগ্ন অঞ্চলে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সোমবার সকালেই সল্টলেকের CGO কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন সুজিত বসু। ED সূত্রে খবর, পুরসভায় নিয়োগ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন সন্দেহজনক সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার জেরার পর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তদন্তকারীদের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি।

তবে গ্রেফতারের আগে সুজিত বসু দাবি করেছিলেন, এই মামলায় ইতিমধ্যেই CBI চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং সেখানে তাঁর নাম নেই। তিনি আরও বলেন, তদন্তে তিনি পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেন হয়েছিল। উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি, বরানগর এবং হালিশহর-সহ একাধিক পুরসভা এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। অভিযোগ, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল।

এর আগে সুজিত বসুর বাড়ি, অফিস এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল ED। সেই অভিযানে নগদ টাকা, সম্পত্তির নথি এবং ডিজিটাল ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।ED সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা নতুন আর্থিক লেনদেনের সূত্র পেয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই সোমবারের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্ন করা হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে।

রাজনৈতিকভাবে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার পর এবার পুর নিয়োগ দুর্নীতিও পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।বিরোধী বিজেপি এই গ্রেফতারিকে “দুর্নীতির বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ” বলে দাবি করেছে। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত সবাইকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতি করা হচ্ছে। দলের একাংশের দাবি, বিরোধী নেতাদের টার্গেট করতেই ED ও CBI-কে ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এই গ্রেফতারির পর তদন্ত আরও বিস্তৃত হতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই একাধিক পুরসভা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে তদন্তে। আগামী দিনে আরও তল্লাশি, জেরা এবং নতুন গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমানে সুজিত বসুকে আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে। ED তাঁর হেফাজত চেয়ে আবেদন করতে পারে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে আরও কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক আধিকারিক জড়িত ছিলেন। রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন— পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত আর কতদূর গড়াবে এবং আগামী দিনে আরও কত বড় নাম সামনে আসতে পারে?

More News