Mamata Banerjee advisors resignation
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার নবান্নের অন্দরেও বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা এবং বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক আধিকারিক ইস্তফা (Mamata Banerjee advisors resignation) দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা মহলে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কয়েকজন উপদেষ্টা ইতিমধ্যেই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। তাঁদের অনেকেই নাকি সাংবিধানিক রীতি মেনেই পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা সামনে আসতেই প্রশাসনিক স্তরে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পদে থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। যদিও এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও নাম ঘোষণা হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলে Alapan Bandyopadhyay, Jawhar Sircar-সহ একাধিক পরিচিত মুখকে ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন হওয়াটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। কারণ এই পদগুলির অধিকাংশই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আস্থার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। ফলে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উপদেষ্টাদের দায়িত্বও বদলে যেতে পারে।
এদিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। বিজেপি রাজ্যে সরকার গঠনের পথে এগোলেও এখনও পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমি ইস্তফা দেব না।” পাশাপাশি ভোটে কারচুপির অভিযোগও তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে নবান্নে প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে। কারণ সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হলে প্রশাসনের উচ্চস্তরে দ্রুত রদবদল শুরু হওয়াটা স্বাভাবিক। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত আধিকারিকদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।
অন্যদিকে বিজেপি শিবির অবশ্য এই পরিস্থিতিকে “স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া” বলেই ব্যাখ্যা করছে। দলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিনের শাসনের পর প্রশাসনের ভিতরে একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হয়েছিল, যা এখন পরিবর্তনের মুখে। তাই অনেক উপদেষ্টা ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ আবার মনে করছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক রদবদল নয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নবান্নের ক্ষমতার কেন্দ্রেও বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের সিদ্ধান্তগুলি এখন রাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এরই মধ্যে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে নিরাপত্তা বলয় শিথিল হওয়ার ঘটনাও নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের। দীর্ঘদিন ধরে কড়া নিরাপত্তায় ঘেরা থাকা এলাকায় আচমকা পরিবর্তন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। আগামী কয়েক দিনে নবান্নে কী ধরনের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।