Marine Virus Eye Disease
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: মানুষের শরীরে সংক্রমণের নতুন এক আশঙ্কার কথা সামনে আনল সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক গবেষণা। এতদিন যে ভাইরাস শুধুমাত্র সামুদ্রিক প্রাণী—বিশেষ করে চিংড়ি ও মাছের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, সেই ভাইরাসই এবার মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘস্থায়ী চোখের জটিল রোগের কারণ হতে পারে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা (Marine Virus Eye Disease)। এই আবিষ্কার ঘিরে চিকিৎসক ও গবেষক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ।
গবেষণায় উঠে এসেছে, Covert Mortality Nodavirus (CMNV) নামের একটি ভাইরাস, যা মূলত সামুদ্রিক প্রাণীর মধ্যে পাওয়া যায়, সেটিই মানুষের চোখের এক বিশেষ রোগের সঙ্গে যুক্ত। রোগটির নাম Persistent Ocular Hypertension Viral Anterior Uveitis (POH-VAU)—যেখানে চোখে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ, চোখের ভেতরের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের সবচেয়ে বড় বিপদ হলো—এটি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলি উপেক্ষা করা হয়। ফলে রোগটি গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছে গেলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। চোখ লাল হওয়া, ব্যথা, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া—এই উপসর্গগুলি দেখা দিলেই দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে একাধিক রোগীর উপর। প্রায় ৭০ জন আক্রান্ত ব্যক্তির চোখের নমুনা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, তাদের টিস্যুতে এই ভাইরাসের উপস্থিতি রয়েছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—জেনেটিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ভাইরাসের সঙ্গে সামুদ্রিক প্রাণীর ভাইরাসের প্রায় ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। ফলে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন, এটি একটি জুনোটিক সংক্রমণ (animal-to-human transmission)—অর্থাৎ প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, কীভাবে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। গবেষণায় সম্ভাব্য কয়েকটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে—
অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তারা নিয়মিত কাঁচা বা কম রান্না করা সামুদ্রিক খাবার খেতেন অথবা মাছ/চিংড়ি নিয়ে কাজ করতেন। ফলে খাদ্যাভ্যাস ও পেশাগত সংস্পর্শ—দুটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ভবিষ্যতে আরও নতুন ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক খাবারের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই এই ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ—
এই আবিষ্কার শুধুমাত্র একটি নতুন রোগের তথ্য নয়, বরং এটি মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের মধ্যে গভীর সংযোগের একটি সতর্কবার্তা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে এই ধরনের সংক্রমণ রোধ করতে হলে আরও গবেষণা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সব মিলিয়ে, চিংড়ি–মাছের ভাইরাস থেকে মানুষের চোখের রোগ—এই ঘটনা বিশ্ব স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। এখন দেখার, এই বিষয়ে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে নেওয়া যায়।