AAP MPs join BJP 2026
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : ভারতের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেল কেজরিওয়ালের দল। একসঙ্গে একাধিক শীর্ষ নেতা দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় আম আদমি পার্টি (AAP)-র ভিত নড়ে গেছে। এই তালিকায় রয়েছেন Raghav Chadha, Swati Maliwal এবং Ashok Mittal-সহ একাধিক সাংসদ (AAP MPs join BJP 2026)।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হল—অশোক মিত্তল, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং এমনকি এক বছর নিজের বাড়িতে কেজরিওয়ালকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তিনিও দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন ঠিক সেই সময়, যখন কেজরিওয়াল তাঁর বাড়ি ছেড়ে দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
AAP-এর রাজ্যসভার মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
এই তালিকায় রাঘব চাড্ডা, অশোক মিত্তল, স্বাতী মালিওয়াল ছাড়াও আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা রয়েছেন। এই ঘটনাকে AAP-এর জন্য “বড় ধাক্কা” বলে মনে করা হচ্ছে।
রাঘব চাড্ডা, যিনি একসময় কেজরিওয়ালের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তিনিই এই বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। তিনি দাবি করেন, দল তার আদর্শ থেকে সরে গেছে এবং তাই নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না।
অন্যদিকে, স্বাতী মালিওয়ালও বিজেপিতে যোগ দিয়ে কেজরিওয়ালের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশের উন্নয়নের জন্য তিনি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বাস রাখছেন।
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে অশোক মিত্তলের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তিনি শুধু একজন সাংসদই নন, বরং কেজরিওয়ালের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের অন্যতম সদস্য ছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি প্রায় এক বছর কেজরিওয়ালকে নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন। কিন্তু কেজরিওয়াল সেই বাড়ি ছাড়ার দিনই মিত্তল দল ছাড়েন (AAP MPs join BJP 2026) —যা রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন নয়, বরং AAP-এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরেই দলের ভিতরে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল, যা এবার প্রকাশ্যে এসেছে।
এই ভাঙনের ফলে রাজ্যসভায় AAP-এর শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কারণ, দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ দল ছাড়লে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দলভাঙনের প্রক্রিয়া বৈধ হতে পারে।
এদিকে, AAP নেতৃত্ব এই ঘটনাকে “বিশ্বাসঘাতকতা” বলে আখ্যা দিয়েছে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ এবং রাজনৈতিক প্রলোভনের কারণে এই দলবদল ঘটেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, AAP একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছিল, বিশেষ করে দিল্লি ও পাঞ্জাবে। কিন্তু এই ধরনের ভাঙন তাদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি শুধু একটি দলবদল নয়—এটি একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আগামী দিনে এই ভাঙনের প্রভাব কীভাবে দেশের রাজনীতিতে পড়বে, সেটাই এখন দেখার।