Saleem Wastik arrest stabbing case
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে চাঞ্চল্য ছড়ানো ইউটিউবার হামলার ঘটনায় সামনে এল আরও বিস্ফোরক তথ্য। ‘এক্স-মুসলিম’ ইউটিউবার হিসেবে পরিচিত Saleem Wastik-এর ওপর ভয়ঙ্কর ছুরিকাঘাতের ঘটনার কয়েক মাস পর তাঁকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। আর সেই গ্রেফতার ঘিরেই উঠে এল ৩১ বছর আগের এক খুনের (Saleem Wastik arrest stabbing case) রহস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালের ২০ জানুয়ারি এক কিশোরকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ ছিল সলিম ওয়াস্তিকের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই মামলায় পলাতক ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক তদন্তে তাঁর পরিচয় ও অতীত সামনে আসতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনা আরও চাঞ্চল্যকর কারণ, কয়েক মাস আগেই গাজিয়াবাদের নিজের বাড়িতে ভয়ঙ্কর হামলার শিকার হন সলিম ওয়াস্তিক। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ দুই দুষ্কৃতী তাঁর বাড়ির ভেতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর গলা ও পেটে একাধিকবার আঘাত করে পালিয়ে যায়। ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং দীর্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা হেলমেট পরে এসেছিল এবং পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, হামলার সঙ্গে জড়িত দুই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। এই হামলার কয়েক মাসের মধ্যেই যখন ওয়াস্তিক সুস্থ হয়ে উঠছিলেন, তখনই তাঁর অতীতের অপরাধ সামনে আসে। তদন্তকারীরা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় বদলে লুকিয়ে ছিলেন এবং নতুন পরিচয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় ছিলেন।
সলিম ওয়াস্তিক মূলত তাঁর ইউটিউব চ্যানেল এবং টিভি বিতর্কে অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি নিজেকে “এক্স-মুসলিম” হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতেন। এর ফলে তিনি বহুবার বিতর্কের কেন্দ্রেও ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনাটি একাধিক স্তরে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, এটি একটি বড় অপরাধ মামলার পুনরুজ্জীবন—যেখানে তিন দশক পুরনো একটি খুনের অভিযোগ আবার সামনে এসেছে। দ্বিতীয়ত, এটি দেখায় যে, ডিজিটাল পরিচয়ের আড়ালে থেকেও অতীত (Saleem Wastik arrest stabbing case) লুকিয়ে রাখা সবসময় সম্ভব নয়।
এই ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একজন ব্যক্তি এত বছর ধরে পলাতক থেকেও কীভাবে নতুন পরিচয়ে সমাজে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছিলেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে, ওয়াস্তিকের ওপর হামলার ঘটনাও এখনও সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট নয়। পুলিশ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে—ব্যক্তিগত শত্রুতা, মতাদর্শগত বিরোধ কিংবা পুরনো অপরাধের সঙ্গে কোনও যোগ রয়েছে কিনা।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনাটি এখন দ্বিমুখী তদন্তে পরিণত হয়েছে—
👉 একদিকে ২০২৬ সালের ভয়ঙ্কর হামলা
👉 অন্যদিকে ১৯৯৫ সালের খুনের মামলা
এই দুইয়ের মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সেটাই এখন তদন্তকারীদের প্রধান লক্ষ্য।