Ashok Lahiri NITI Aayog Vice Chairman
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণকারী সংস্থা NITI Aayog-এ বড় রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের খবর অনুযায়ী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক Ashok Lahiri-কে নীতিআয়োগের সহ-সভাপতি (Vice Chairman) পদে বসানোর সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত (Ashok Lahiri NITI Aayog Vice Chairman)। এই নিয়োগ কার্যকর হলে দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় উঠে আসবেন।
অশোক লাহিড়ী দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতি ও প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত। তিনি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর সঙ্গেও কাজ করেছেন। অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন, রাজস্ব কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁকে এই পদের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনীতিতে আসার পর তিনি পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করেন, যদিও পরবর্তীতে দলীয় টিকিট না পাওয়া নিয়ে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তবুও তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা এবং অর্থনৈতিক জ্ঞানকে গুরুত্ব দিয়েই কেন্দ্র এই দায়িত্ব দিতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
নীতিআয়োগ দেশের উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই সংস্থার সহ-সভাপতি পদে বসা মানে দেশের উন্নয়ন রূপরেখা তৈরির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া। এই পদে থেকে অশোক লাহিড়ী সরাসরি অর্থনৈতিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারবেন এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর মতো অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এই দায়িত্বে এলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও তথ্যনির্ভর ও বাস্তবমুখী হতে পারে।
একজন বাঙালি অর্থনীতিবিদের এই উচ্চপদে আসীন হওয়া বাংলার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন সংক্রান্ত দাবি ও প্রয়োজনীয়তা কেন্দ্রীয় স্তরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষিতে এই নিয়োগের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তাও লুকিয়ে থাকতে পারে। যদিও বিজেপির দাবি, এটি সম্পূর্ণভাবে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্ত।
এদিকে, শুধু অশোক লাহিড়ী নন, বাংলার আরেক ব্যক্তিত্ব বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাসকেও নীতিআয়োগের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার খবর পাওয়া গেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, ফলে নীতিআয়োগে অর্থনীতির পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি নির্ধারণেও নতুন দিশা মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে একে যোগ্যতার স্বীকৃতি বলা হলেও বিরোধীদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। তবে সব বিতর্কের মধ্যেও এটা স্পষ্ট যে, Ashok Lahiri-র সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা—এই সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই তাঁকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সব মিলিয়ে, Ashok Lahiri-র নীতিআয়োগের সহ-সভাপতি পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনা দেশের অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হতে চলেছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আগামী দিনে ভারতের অর্থনৈতিক দিশা নির্ধারণে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।