ATF Price India Airlines
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : ভারতের বিমান পরিষেবা খাতে বড় সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশের শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলি—Air India, IndiGo এবং SpiceJet—একযোগে কেন্দ্র সরকারকে সতর্ক বার্তা দিয়েছে যে, পরিস্থিতি এভাবেই চলতে থাকলে তারা পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে। মূল সমস্যা (ATF Price India Airlines) হিসেবে উঠে এসেছে Aviation Turbine Fuel (ATF)-এর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, যা বর্তমানে বিমান সংস্থাগুলির অপারেশনাল খরচকে চরম পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছে।
Federation of Indian Airlines (FIA)-এর মাধ্যমে কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গোটা বিমান শিল্প বর্তমানে “extreme stress”-এর মধ্যে রয়েছে এবং কার্যত “stopping operations”-এর মুখে দাঁড়িয়ে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরোতে না পারলে খুব শিগগিরই ফ্লাইট পরিষেবায় বড় ধাক্কা আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ATF-এর দাম এখন বিমান সংস্থাগুলির মোট খরচের প্রায় ৪০% থেকে বেড়ে ৬০%-এ পৌঁছে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই অতিরিক্ত খরচ সামলাতে গিয়ে সংস্থাগুলিকে হয় ভাড়া বাড়াতে হবে, নয়তো ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে হবে—দুই ক্ষেত্রেই সাধারণ যাত্রীদের উপর চাপ বাড়বে।
এছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক এয়ারস্পেস সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক রুট দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে, ফলে জ্বালানি খরচ আরও বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলি কেন্দ্রের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ATF-এর উপর আবগারি শুল্ক সাময়িকভাবে কমানো বা স্থগিত করা, ভ্যাট হ্রাস করা এবং জ্বালানির মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা। পাশাপাশি আর্থিক সহায়তাও চাওয়া হয়েছে, যাতে সংস্থাগুলি অন্তত স্বাভাবিক পরিষেবা চালিয়ে যেতে পারে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সূচিতে প্রায় ১০% ফ্লাইট কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান সংস্থাগুলি, যা এই সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সবমিলিয়ে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটজনক। যদি দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ না আসে, তাহলে ভারতের বিমান পরিষেবা খাত বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে যাত্রী পরিষেবা, টিকিটের দাম এবং দেশের সামগ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থার উপর।