Rishi Raj Singh IPAC ED summon
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক : আই-প্যাক বা Indian Political Action Committee-কে ঘিরে ফের বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে ভোটের মুখে। মানি লন্ডারিং ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সংস্থার ডিরেক্টর Rishi Raj Singh-কে তলব করেছে Enforcement Directorate (ইডি)। তদন্তকারী সংস্থার নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে দিল্লিতে ইডির দফতরে হাজিরা (Rishi Raj Singh IPAC ED summon) দিতে বলা হয়েছে। এই তলব ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জোর চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে।
তদন্ত সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হাওয়ালা লেনদেন, ভুয়ো বিলিং এবং অঘোষিত অর্থের আদান-প্রদানের অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংস্থা ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ বেআইনি পথে স্থানান্তর করা হয়েছে, যা মানি লন্ডারিং আইনের আওতায় পড়ে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি ইতিমধ্যে প্রিভেনশন অব মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীনে মামলা দায়ের করেছে এবং সেই সূত্রেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে ঋষি রাজ সিংহকে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আই-প্যাক একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক কৌশল সংস্থা, যা ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে এই সংস্থার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। ফলে এই তদন্তের রাজনৈতিক তাৎপর্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগেও আই-প্যাকের সঙ্গে যুক্ত একাধিক স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। দিল্লি, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ সহ বিভিন্ন শহরে অভিযান চালানোর পাশাপাশি কলকাতার অফিসেও তল্লাশি হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় ৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিস পাওয়া গেছে, যা এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ভোটের আগে এই ধরনের পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে দুর্নীতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে শাসক শিবিরের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তবে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং ঋষি রাজ সিংহের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন দেখার।