• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Ishank world record swimming

৭ বছরেই বিশ্বরেকর্ড! উত্তাল সমুদ্র পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতের বিস্ময় বালক ঈশাঙ্ক

মাত্র ৭ বছর বয়সেই শ্রীলঙ্কা থেকে ভারত পর্যন্ত ভয়ংকর সমুদ্রপথ সাঁতরে বিশ্বরেকর্ড গড়ল ঝাড়খণ্ডের বিস্ময় বালক ঈশাঙ্ক। প্রায় ২৯ কিলোমিটার পথ সে পেরিয়েছে ১০ ঘণ্টারও কম সময়ে।

৭ বছরেই বিশ্বরেকর্ড! উত্তাল সমুদ্র পেরিয়ে ইতিহাস গড়ল ভারতের বিস্ময় বালক ঈশাঙ্ক

Ishank world record swimming

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 7, 2026 5:47 am
  • Update:May 7, 2026 5:47 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি  ডেস্ক: মাত্র ৭ বছর বয়সেই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এল ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচির খুদে সাঁতারু ঈশাঙ্ক। ভয়ংকর স্রোত আর উত্তাল ঢেউকে উপেক্ষা করে শ্রীলঙ্কা থেকে ভারত পর্যন্ত সমুদ্রপথ সাঁতরে পাড়ি দিয়ে গড়েছে নতুন বিশ্বরেকর্ড (Ishank world record swimming)। এত কম বয়সে এমন কঠিন সমুদ্রপথ অতিক্রম করার নজির এর আগে দেখা যায়নি বলেই দাবি করা হচ্ছে।

ভারতের ক্রীড়াজগতে নতুন বিস্ময়ের নাম এখন ঈশাঙ্ক। ঝাড়খণ্ডের রাঁচির এই ৭ বছরের বালক এমন এক কীর্তি গড়েছে, যা অনেক প্রাপ্তবয়স্ক পেশাদার সাঁতারুর কাছেও স্বপ্নের মতো। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত ভয়ংকর সমুদ্রপথ সাঁতরে পাড়ি দিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে সে।

এই সমুদ্রপথটি মূলত Palk Strait বা পক প্রণালী নামে পরিচিত। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝখানে অবস্থিত এই জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক স্রোত, অনিশ্চিত আবহাওয়া এবং বিশাল ঢেউয়ের জন্য পরিচিত। অভিজ্ঞ সাঁতারুদের কাছেও এই রুট অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং বলে ধরা হয়।

রিপোর্ট অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার Talaimannar উপকূল থেকে সাঁতার শুরু করে ঈশাঙ্ক। তারপর প্রায় ৯ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ধরে একটানা সাঁতার কেটে ভারতের দিকে এগিয়ে যায় সে। দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে ভারতের Dhanushkodi উপকূলে পৌঁছে জল থেকে উঠে আসে এই খুদে সাঁতারু।

সব মিলিয়ে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রপথ সে ১০ ঘণ্টারও কম সময়ে অতিক্রম করেছে। এত অল্প বয়সে এমন কঠিন সমুদ্রযাত্রা সম্পূর্ণ করার নজির আগে নেই বলেই দাবি করা হচ্ছে। সেই কারণেই এই কৃতিত্বকে নতুন বিশ্বরেকর্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঈশাঙ্কের পরিবার জানিয়েছে, এই চ্যালেঞ্জের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অনুশীলন করছিল সে। প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা করে সাঁতারের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ ফিটনেস ট্রেনিংও চলত নিয়মিত। কোচদের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে তাকে সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এত কম বয়সে শুধু শারীরিক সক্ষমতা নয়, মানসিক দৃঢ়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তাল সমুদ্রে দীর্ঘ সময় ধরে সাঁতার কাটা অত্যন্ত কঠিন কাজ। সেখানে ঈশাঙ্কের ধৈর্য, একাগ্রতা এবং আত্মবিশ্বাসই তাকে সফল করেছে।

ঈশাঙ্কের এই সাফল্যে গর্বিত ঝাড়খণ্ডবাসী। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে তার এই কীর্তি। বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাকে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতের হয়ে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে এই বিস্ময় বালক।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈশাঙ্কের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, ভারতীয় সাঁতার জগতের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই সাফল্য ভবিষ্যতের তরুণ সাঁতারুদের অনুপ্রাণিত করবে এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়, সেই বার্তাই তুলে ধরবে।

More News