• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Prashant Kishor Ashram

রাজনীতিতে ধাক্কার পর ‘আশ্রমবাসী’ প্রশান্ত কিশোর! পাটনার বাংলো ছেড়ে নতুন ঠিকানায় পিকে

নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর পাটনার বাংলো ছেড়ে নবনির্মাণ আশ্রমে থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন প্রশান্ত কিশোর। তবে রাজনীতি ছাড়ছেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি।

রাজনীতিতে ধাক্কার পর ‘আশ্রমবাসী’ প্রশান্ত কিশোর! পাটনার বাংলো ছেড়ে নতুন ঠিকানায় পিকে

Prashant Kishor Ashram

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 21, 2026 5:09 pm
  • Update:May 21, 2026 5:09 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দেশের অন্যতম পরিচিত নির্বাচনী কৌশলবিদ থেকে রাজনীতির ময়দানে সরাসরি প্রবেশ— Prashant Kishor-এর রাজনৈতিক যাত্রাপথ গত কয়েক বছরে বহু চর্চার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু রাজনীতিতে সরাসরি আত্মপ্রকাশের পর প্রথম বড় নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল না আসায় এবার তাঁর সিদ্ধান্ত নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। পাটনা বিমানবন্দরের কাছের বিলাসবহুল বাংলো ছেড়ে (Prashant Kishor Ashram)  এবার তিনি চলে যাচ্ছেন ‘নবনির্মাণ আশ্রমে’।

ভারতীয় রাজনীতিতে নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে প্রশান্ত কিশোরের সাফল্য দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয়। দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে তাঁর কৌশল রাজনৈতিক দলগুলিকে সাফল্য এনে দিয়েছে। নির্বাচনী রণকৌশলের পেশাকে জাতীয় স্তরে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর ‘স্ট্রাইক রেট’ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হয়েছে।

তবে প্রায় তিন বছর আগে আচমকাই তিনি নির্বাচনী পরামর্শদাতার ভূমিকাকে পিছনে রেখে সরাসরি রাজনীতির ময়দানে নামার সিদ্ধান্ত নেন। বিহারকে কেন্দ্র করে শুরু করেন ‘জন সুরাজ’ অভিযান। প্রথমে এটি ছিল একটি সামাজিক-রাজনৈতিক প্রচার কর্মসূচি। বিহারের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামের মানুষদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ধরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সফর করেন তিনি।

পরে সেই উদ্যোগই রাজনৈতিক রূপ পায় এবং গঠিত হয় তাঁর দল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, প্রচারপর্বে প্রশান্ত কিশোর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। বিশেষ করে সমাজমাধ্যমে তাঁর অনুগামী সংখ্যা এবং জনসংযোগ কর্মসূচি যথেষ্ট আলোচনায় ছিল।

তবে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাশার সঙ্গে মিল খায়নি। ভোটে জন সুরাজের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। কোনও আসনও পায়নি দল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের জনপ্রিয়তা এবং ভোটবাক্সের ফলাফলের মধ্যে বড় ব্যবধান স্পষ্ট হয়েছে এই ফলাফলে।

এই ফল প্রকাশের পর থেকেই প্রশান্ত কিশোরকে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নীরব দেখা যায়। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও কিছুটা দূরে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছিল। যদিও এর মধ্যে তাঁর কয়েকটি রাজনৈতিক বৈঠক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগের খবর সামনে আসে।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে, তিনি আবার নির্বাচনী কৌশলবিদ হিসেবে সক্রিয় হতে পারেন। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, কিছু রাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলিকে পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি আবার যুক্ত হচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে বিশদ কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন পিকে। তিনি জানিয়েছেন, পাটনার কাছে নবনির্মাণ আশ্রমেই তিনি আগামী দিনগুলিতে থাকবেন। আগামী বিহার বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত সেখানেই থাকার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

এতদিন তিনি থাকতেন তাঁর দলের সর্বভারতীয় সভাপতি উদয় সিংয়ের বাংলোয়। তবে এবার সেই ঠিকানা বদলাচ্ছে। যদিও আশ্রমে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া হিসেবে দেখতে নারাজ।

প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর দল রাজনৈতিক লড়াই থেকে পিছিয়ে আসছে না। তাঁর কথায়, আগামী বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত তিনি আশ্রমেই থাকবেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তাঁর দল আরও ভালো ফল করবে বলে তিনি আশাবাদী।

এই সিদ্ধান্তের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে এটি ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার পরিবর্তন, আবার অন্য একাংশের মতে এটি রাজনৈতিকভাবে নতুন কৌশলের ইঙ্গিতও হতে পারে।

More News