Twisha Sharma Death Case
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দেশজুড়ে আলোচিত Twisha Sharma-র মৃত্যু মামলায় প্রতিদিনই সামনে আসছে নতুন তথ্য, নতুন প্রশ্ন এবং নতুন বিতর্ক। এবার এই ঘটনায় আরও এক সংবেদনশীল পরিস্থিতির (Twisha Sharma Death Case) সৃষ্টি হয়েছে। ভোপাল পুলিশ টুইশার পরিবারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে মর্গে দেহ সংরক্ষিত অবস্থায় থাকায় তা পচতে শুরু করতে পারে। সেই কারণে দ্রুত দেহ গ্রহণের জন্য পরিবারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু অন্যদিকে পরিবার এখনও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে। ফলে তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া এবং পারিবারিক আবেগ—তিনটি বিষয়ই এখন জটিল অবস্থার মধ্যে এসে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের ১২ মে। সেদিন রাতে ভোপালের শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ৩৩ বছর বয়সী টুইশা শর্মার দেহ। বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় এই ঘটনা সামনে আসায় শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের তরফে জানানো হয় যে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। পরে প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘অ্যান্টিমর্টেম হ্যাংগিং’ বা জীবিত অবস্থায় ফাঁস লাগার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে সেই রিপোর্টেই শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকার কথাও উঠে এসেছে, যা নতুন করে সন্দেহ তৈরি করেছে।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, এটি সাধারণ আত্মহত্যার ঘটনা নয়। তাঁদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই টুইশাকে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। পরিবার আরও অভিযোগ করেছে যে পণ সংক্রান্ত চাপ এবং পারিবারিক অত্যাচারের কারণে তিনি গভীর মানসিক সমস্যার মধ্যে ছিলেন। সেই কারণেই তাঁরা প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সম্পূর্ণ আস্থা রাখতে পারছেন না এবং নতুন করে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ময়নাতদন্তের দাবি তুলেছেন। তাঁরা দেশের কোনও শীর্ষ মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষার দাবিও জানিয়েছেন।
এদিকে পুলিশের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে যে টুইশার দেহ বর্তমানে ভোপালের AIIMS মরচুয়ারিতে সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে দেহ প্রায় -৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় রাখা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে দেহ অক্ষত রাখতে প্রায় -৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রয়োজন হয়। সেই ব্যবস্থা না থাকায় দেহের অবস্থার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে টুইশার পরিবারের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত তৈরি হয়েছে। একদিকে মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তাঁরা দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের দাবি থেকে সরে আসতে চাইছেন না। অন্যদিকে দীর্ঘদিন দেহ সংরক্ষণের ফলে তার অবস্থার অবনতি হলে ভবিষ্যতের ফরেনসিক পরীক্ষাও প্রভাবিত হতে পারে। টুইশার বাবা জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি শুধুমাত্র একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত। তাঁর বক্তব্য, “সমস্ত ফরেনসিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মর্যাদার সঙ্গে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।”
এই মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। প্রথম ময়নাতদন্তের সময় তদন্তকারী অফিসার নাকি চিকিৎসকদের কাছে ফাঁসের জন্য ব্যবহৃত বলে দাবি করা বস্তুটি উপস্থাপন করেননি। এর ফলে গলায় থাকা দাগের সঙ্গে ওই বস্তুর বৈজ্ঞানিক মিলিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অন্যদিকে এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত টুইশার স্বামী Samarth Singh-কে খুঁজে বের করার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য দিলে পুরস্কার ঘোষণার কথাও সামনে এসেছে। তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি এই মামলায় সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন।
টুইশা শর্মার মৃত্যু তাই এখন আর শুধু একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নয়। এটি পরিণত হয়েছে এমন এক ঘটনায়, যেখানে তদন্ত প্রক্রিয়া, ফরেনসিক পদ্ধতি, পারিবারিক অভিযোগ এবং বিচার পাওয়ার দাবি—সবকিছুই একসঙ্গে প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। আগামী দিনে আদালত, তদন্তকারী সংস্থা এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করবে এই রহস্যের পরবর্তী অধ্যায়।