• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Super El Nino India Heatwave

‘সুপার এল নিনো’ কি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হতে চলেছে? ভারতজুড়ে তাপপ্রবাহ ও দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা

প্রশান্ত মহাসাগরে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভারতে তাপপ্রবাহ, দুর্বল বর্ষা, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জলসংকটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

‘সুপার এল নিনো’ কি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী হতে চলেছে? ভারতজুড়ে তাপপ্রবাহ ও দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা

Super El Nino India Heatwave

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 19, 2026 5:55 pm
  • Update:May 19, 2026 5:55 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে আবহাওয়াবিদদের নজর এখন প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে। কারণ নতুন করে তৈরি হওয়া এল নিনো পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সাম্প্রতিক জলবায়ু মডেলগুলির একাংশ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬-২৭ পর্বে এমন একটি ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি হতে পারে যা ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলির মধ্যে একটি হতে পারে। যদিও এখনও এটি চূড়ান্ত পূর্বাভাস নয়, তবুও ভারত-সহ একাধিক দেশের জন্য এর সম্ভাব্য প্রভাব (Super El Nino India Heatwave) নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্কতা শুরু হয়েছে।

এল নিনো মূলত একটি বৈশ্বিক জলবায়ু প্রক্রিয়া, যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসে। ভারতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ে, কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর শক্তির সঙ্গে এই ঘটনাটির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হল দুর্বল বর্ষা। দেশের মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে জুন-সেপ্টেম্বরের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মাধ্যমে। কিছু পূর্বাভাস বলছে, চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হতে পারে। এমনকি কিছু মূল্যায়নে সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত প্রায় ৮০০ মিলিমিটার পর্যন্ত নেমে আসার ইঙ্গিতও রয়েছে, যেখানে দীর্ঘমেয়াদি গড় প্রায় ৮৭০ মিলিমিটার।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাপপ্রবাহের (Super El Nino India Heatwave) ঝুঁকি। চলতি বছর ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন অংশে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ভারতের আবহাওয়া দপ্তর একাধিক রাজ্যে তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হলে গরমের সময়কাল আরও দীর্ঘ হতে পারে এবং তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে।

কৃষিক্ষেত্রে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ দেশের একটি বড় অংশের কৃষিকাজ এখনও বর্ষার উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনো বছরে ধান ও ভুট্টার মতো খরিফ ফসলের উৎপাদন বহু অঞ্চলে ১০ শতাংশেরও বেশি কমে যেতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এর প্রভাব শুধু কৃষিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কম বৃষ্টিপাত মানে জলাধারে কম জল, ভূগর্ভস্থ জলের পুনর্ভরণ কমে যাওয়া এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলে জলসংকটের আশঙ্কা বৃদ্ধি। একইসঙ্গে খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমলে খাদ্যদ্রব্যের দামও বাড়তে পারে।

তবে আবহাওয়াবিদরা এটাও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে এখনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি। এল নিনোর প্রভাব নির্ধারণে শুধু প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা নয়, ভারত মহাসাগরের অবস্থা, Indian Ocean Dipole (IOD) এবং আরও একাধিক জলবায়ুগত উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের শক্তিশালী এল নিনো ঘটনাগুলি বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের আবহাওয়া ও অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলেছিল। ফলে নতুন সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে।

More News