Vijay Prabhakaran Tamil Rights
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের স্মৃতি এবং তামিল জাতিগত রাজনীতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। মুল্লিভাইক্কাল স্মরণ দিবস উপলক্ষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা TVK প্রধান সি জোসেফ বিজয়ের একটি বার্তা নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের (Vijay Prabhakaran Tamil Rights) জন্ম দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার তামিলদের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁর সামাজিক মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
মুল্লিভাইক্কাল স্মরণ দিবস প্রতি বছর ১৮ মে পালিত হয়। এই দিনটি শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে নিহত তামিল নাগরিকদের স্মরণে বিশ্বজুড়ে পালন করা হয়। একইসঙ্গে এই সময়টিই LTTE প্রতিষ্ঠাতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের মৃত্যুর সঙ্গেও যুক্ত। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর অভিযানে মুল্লিভাইক্কাল এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছিল।
নিজের বার্তায় বিজয় লেখেন, “মুল্লিভাইক্কালের স্মৃতি আমাদের হৃদয়ে থাকবে। সমুদ্রের ওপারে বসবাসকারী আমাদের তামিল ভাই-বোনদের অধিকারের পাশে আমরা সবসময় থাকব।” তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই একে শ্রীলঙ্কার তামিলদের প্রতি সহমর্মিতা হিসেবে দেখলেও, অন্য অংশের মতে এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কারণ LTTE বা লিবারেশন টাইগার্স অফ তামিল ইলম এখনও ভারতে নিষিদ্ধ সংগঠন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় LTTE-র নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর ভারত এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। প্রভাকরণকে ওই মামলার প্রধান অভিযুক্তদের একজন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীর আবহে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য বা প্রতীকী বার্তা সবসময়ই বিতর্কের জন্ম দেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কার তামিল ইস্যু তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের একটি আবেগঘন বিষয়। বহু দশক ধরে রাজ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কার তামিলদের মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে সরব হয়েছে। তবে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি সাধারণত অত্যন্ত সতর্কভাবে এই বিষয়টি তুলে ধরে, কারণ এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভারতের নিরাপত্তা সম্পর্কও জড়িয়ে রয়েছে।
শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছিল তামিলদের জন্য পৃথক রাষ্ট্রের দাবিকে কেন্দ্র করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা দীর্ঘস্থায়ী জাতিগত সংঘাতে রূপ নেয়। প্রায় তিন দশক ধরে চলা এই সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে মুল্লিভাইক্কাল এলাকায় বহু সাধারণ তামিল নাগরিকের মৃত্যু নিয়ে এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশ বহুবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
বিজয়ের সাম্প্রতিক পোস্টকে ঘিরে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁদের অভিযোগ, অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে এমন মন্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি করতে পারে। যদিও বিজয়ের সমর্থকদের দাবি, তিনি কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতি সমর্থন জানাননি; বরং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রীলঙ্কার তামিল জনগোষ্ঠীর অধিকারের কথা বলেছেন।
এই ঘটনার ফলে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, শ্রীলঙ্কার তামিল ইস্যু এখনও দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে গভীর আবেগ ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক আরও কতটা রাজনৈতিক রূপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।