• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Deepika Nagar Dowry Death

বিয়েতে খরচ প্রায় ১ কোটি! তবু ‘ফরচুনার’ ও ₹৫১ লক্ষের দাবিতে নির্যাতন, গ্রেটার নয়ডায় রহস্যমৃত্যু তরুণীর

গ্রেটার নয়ডায় রহস্যজনক মৃত্যু ২৫ বছরের দীপিকা নাগরের। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই ₹৫০ লাখ ও Fortuner গাড়ির দাবিতে নির্যাতন চালানো হত। তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্বামী ও শ্বশুরকে।

বিয়েতে খরচ প্রায় ১ কোটি! তবু ‘ফরচুনার’ ও ₹৫১ লক্ষের দাবিতে নির্যাতন, গ্রেটার নয়ডায় রহস্যমৃত্যু তরুণীর

Deepika Nagar Dowry Death

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 18, 2026 11:56 am
  • Update:May 18, 2026 11:56 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক :  বিয়ের মাত্র দেড় বছরের মধ্যেই রহস্যজনক মৃত্যু ২৫ বছরের এক তরুণীর। গ্রেটার নয়ডার জলপুরা এলাকায় শ্বশুরবাড়ির তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে দীপিকা নাগর নামে এক গৃহবধূর। পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং পণের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর তাঁকে খুন (Deepika Nagar Dowry Death) করা হয়েছে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে মৃতার স্বামী রিতিক তনওয়ার এবং শ্বশুর মনোজ তনওয়ারকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে Ecotech-III থানার অন্তর্গত জলপুরা এলাকা থেকে খবর আসে, এক বিবাহিতা মহিলা ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হয়েছেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃতার বাবা সঞ্জয় নাগরের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অত্যন্ত ধুমধাম করে মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিয়েতে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। নগদ ₹১১ লাখ, প্রায় ₹৫০ লাখ মূল্যের সোনার গয়না, আসবাবপত্র এবং একটি Scorpio গাড়িও দেওয়া হয়েছিল পণের অংশ হিসেবে। কিন্তু তারপরও মেয়ের উপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি।

পরিবারের দাবি, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই আরও ₹৫০ লাখ এবং একটি Toyota Fortuner গাড়ির দাবি করতে শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেই দাবিপূরণ না হওয়াতেই দীপিকার উপর চলত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন (Deepika Nagar Dowry Death)।

পরিবারের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যাতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে ফোন করেছিলেন দীপিকা। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁকে মারধর করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পরিবারের কয়েকজন সদস্য শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই খবর আসে, দীপিকা ছাদ থেকে পড়ে গিয়েছেন।

দীপিকার কাকার দাবি, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। এমনকি নাক ও কান দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছিল বলেও অভিযোগ পরিবারের। পরিবারের সন্দেহ, তাঁকে মারধর করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। তবে পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Central Noida-র DCP শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন,
“পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

কয়েকদিন আগেই ভোপালে নয়ডার তরুণী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের এক নববিবাহিতার মৃত্যু সামনে আসায় নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও পণপ্রথা ও নারী নির্যাতন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন থাকা সত্ত্বেও উত্তর ভারত-সহ দেশের বহু জায়গায় এখনও পণের চাপ এবং বধূ নির্যাতনের ঘটনা ভয়াবহভাবে বিদ্যমান। দীপিকার মৃত্যু সেই বাস্তবতাকেই আবার সামনে এনে দিল।

More News