Air India Mumbai Airport Strike
ক্লাউড টিভি ডেস্ক : মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার বড়সড় বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ল Air India-র একাধিক উড়ান। গ্রাউন্ড স্টাফদের আকস্মিক আন্দোলনের জেরে বহু বিমান দেরিতে ছাড়ে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের অবতরণের পরও দীর্ঘক্ষণ বিমানের ভিতরেই (Air India Mumbai Airport Strike) বসে থাকতে হয়। পরিস্থিতি ঘিরে ক্ষোভ ছড়িয়েছে যাত্রীদের মধ্যে।
Hyderabad থেকে Mumbai-গামী একটি Air India বিমান সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অবতরণ করলেও যাত্রীরা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় বিমান থেকে নামতে পারেননি। পরে লাগেজ সংগ্রহ করতেও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় তাঁদের।
এক যাত্রী সুজিত দিলীপ জানান,
“আমরা ১১টা ৪৫-এ নামি, কিন্তু প্রায় দুপুর ১টা পর্যন্ত বিমানের ভিতরেই বসে থাকতে হয়। পরে জানতে পারি, গ্রাউন্ড স্টাফদের ধর্মঘট চলছে। লাগেজ পেতেও বিকেল ২টো হয়ে যায়।”
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সরকার পরিচালিত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা AI Airport Services Limited (AIASL)-এর কর্মীদের একাংশ বেতন বৃদ্ধি-সহ একাধিক দাবিতে বিক্ষোভ দেখান। এর জেরেই বিমানবন্দরের পরিষেবায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
AIASL শুধু Air India ও Air India Express-ই নয়, একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাকেও পরিষেবা দেয়। ফলে পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে বহু উড়ানে। রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি বিমান ৯০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ে।
মুম্বই থেকে দেরাদুনগামী Air India-র AI 431 উড়ানও অন্তত দু’ঘণ্টা বিলম্বিত হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, revised departure time নিয়েও কোনও স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হচ্ছিল না।
ঘটনার পর Air India এক বিবৃতিতে জানায়,
“মুম্বই বিমানবন্দরে তৃতীয় পক্ষের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থার কর্মীদের industrial action-এর কারণে Air India এবং Air India Express-এর পরিষেবা প্রভাবিত হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক (Air India Mumbai Airport Strike) করতে সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।”
এদিকে AIASL-এর CEO রামবাবু জানিয়েছেন, কর্মীদের দাবিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা নীতিগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর দাবি, আলোচনার আশ্বাস পাওয়ার পর কর্মীরা কাজে ফিরেছেন।
ঘটনার জেরে বহু যাত্রী গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, সংযোগকারী উড়ান এবং নির্ধারিত কর্মসূচি মিস করেছেন বলে অভিযোগ। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে, বিমান অবতরণের পরও কেন যাত্রীদের এতক্ষণ বিমানের ভিতরে আটকে থাকতে হল এবং কেন সময়মতো তথ্য দেওয়া হয়নি।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু লাগেজ নয়, boarding bridge, refuelling, catering এবং aircraft turnaround-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও থমকে যায়। ফলে পুরো বিমানবন্দর ব্যবস্থাই দ্রুত চাপে পড়ে।
বর্তমানে পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও সোমবারের এই বিশৃঙ্খলা ভারতের বেসামরিক বিমান পরিষেবার পরিকাঠামো ও শ্রমিক অসন্তোষ— দুই নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।