Dantan Clash TMC BJP Election
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের উত্তপ্ত হল পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন। ভোটগ্রহণ চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জখম হয়েছেন অন্তত ছয়জন। ঘটনাটি ঘটেছে কেশিয়াড়ি বিধানসভার অন্তর্গত দাঁতন ১ নম্বর ব্লকের ২৩৩ নম্বর বেলমুলা বুথে (Dantan Clash TMC BJP Election)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন হঠাৎ করেই দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, বুথের নির্ধারিত ১০০ মিটারের সীমানার মধ্যে ঢুকে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রথমে বচসা, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা বুথের কাছাকাছি অবস্থান করে ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল। বিজেপি কর্মীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের উপর চড়াও হওয়া হয়। এই ঘটনায় বিজেপির অন্তত দুই কর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, বিজেপির পক্ষ থেকেই প্রথমে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি নেতারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছিলেন এবং ভোটদানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বিজেপি কর্মীরাই তৃণমূল সমর্থকদের উপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় তৃণমূলের চারজন কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন বলে দাবি।
ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, গোটা এলাকা জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নির্বাচন চলাকালীন এই ধরনের সংঘর্ষ নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার ভোটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের সময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে পৌঁছনোর ফলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে বারবার জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে দাঁতনের এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলছে। ফলে বিষয়টি এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, এই ধরনের সংঘর্ষে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং ভোটদানে প্রভাব পড়ে। অনেকেই চাইছেন, প্রশাসন আরও কড়া পদক্ষেপ নিক যাতে বাকি সময়টায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা যায়।
সব মিলিয়ে, দাঁতনের বেলমুলা বুথে সংঘর্ষের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—নির্বাচনের উত্তাপে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পরিস্থিতি কতটা স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। এখন নজর থাকবে প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা কতটা রোধ করা যায় তার দিকে।