West Bengal Election 2026 Turnout 41 Percent
ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় সকাল গড়াতেই ভোটের হার দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে। উত্তরবঙ্গ সহ ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে চলছে এই ভোটগ্রহণ (West Bengal Election 2026 Turnout 41 Percent), যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটার এবং প্রবীণ নাগরিকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত বড় কোনও অশান্তির খবর না থাকায় প্রশাসনের দাবি, প্রথম দফার ভোটগ্রহণ এখনও পর্যন্ত মোটের উপর শান্তিপূর্ণই রয়েছে।
এই দফায় ভোটগ্রহণের জন্য বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মোট ৪৪ হাজার ৩৭৬টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২,৯৫৮টি অক্সিলিয়ারি বুথ। শহরাঞ্চলে ৫,৪৮৭টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৩৫,৯৩১টি বুথে ভোট চলছে।
বিশেষভাবে নজর কাড়ছে মহিলা পরিচালিত বুথের সংখ্যা। মোট ৫,৬৪৪টি বুথ সম্পূর্ণ মহিলা কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যা নারী ক্ষমতায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০৭টি ‘মডেল বুথ’ তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ভোটারদের জন্য উন্নত সুবিধা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও বালুরঘাট এবং আসানসোল উত্তরে দুটি বিশেষ বুথ তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে স্বক্ষম (PwD) কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে অনেকেই প্রশংসা করেছেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হল, প্রতিটি বুথেই রাখা হয়েছে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নজরদারির মধ্যে থাকে। সংবেদনশীল বুথগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
প্রথম দফায় মোট ১,৪৭৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যার মধ্যে ১৬৭ জন মহিলা প্রার্থী রয়েছেন। কোচবিহার দক্ষিণ, করণদীঘি এবং ইটাহার কেন্দ্রে সর্বাধিক ১৫ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে, চন্দ্রকোনা কেন্দ্রে সবচেয়ে কম—মাত্র ৫ জন প্রার্থী।
ভোটারদের পরিসংখ্যানও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দফায় ১০০ বছরের বেশি বয়সী ভোটারের সংখ্যা ৪,০২৫। ৮৫ বছরের বেশি বয়সী ভোটার রয়েছেন প্রায় ২ লক্ষ ৪ হাজারেরও বেশি। এছাড়া প্রায় ২ লক্ষ ৫৩ হাজার PwD ভোটার এই দফায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
ভৌগোলিক দিক থেকেও এই দফা বৈচিত্র্যপূর্ণ। আয়তনের নিরিখে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র শিলিগুড়ি (৪১.৯ বর্গ কিলোমিটার), আর সবচেয়ে বড় কালিম্পং। ভোটারের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে ছোট কেন্দ্র সামসেরগঞ্জ এবং সবচেয়ে বড় পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথম দফার এই ভোটের হার এবং অংশগ্রহণ আগামী দিনের ফলাফলের ইঙ্গিত দিতে পারে। উত্তরবঙ্গ বরাবরই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাই এই দফার ফলাফল গোটা নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে, সকাল ১১টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ এবং উল্লেখযোগ্য ভোটের হার নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির সফলতার দিকেই ইঙ্গিত করছে। এখন নজর থাকবে দিনের শেষে মোট ভোটের শতাংশ কত দাঁড়ায় এবং তা কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে যায়।