Howrah Municipal Election 2026
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দীর্ঘ ১৩ বছরের জটিলতার অবসান ঘটতে চলেছে হাওড়া পুরনিগমের ক্ষেত্রে। অবশেষে হাওড়াবাসীর বহু প্রতীক্ষিত পুরভোট নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। বৃহস্পতিবার হাওড়ায় প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া পুরনিগম এবং বালি পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ড (Howrah Municipal Election 2026) গঠিত হতে পারে।
প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে হাওড়া পুরভোট নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে ছিল। শেষবার ২০১৩ সালে হাওড়া পুরনিগমে ভোট হয়েছিল। তারপর থেকে একাধিক কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বারবার পিছিয়ে যায়। বিশেষ করে হাওড়া পুরনিগমের সঙ্গে বালি পুরসভার সংযুক্তিকরণ এবং পরে পৃথকীকরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত ছিল।
রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী Agnimitra Paul মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে হাওড়া পুরভোটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। সেই আলোচনার পরই এ বার আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট নিয়ে সময়সীমা জানানো হল।
প্রশাসনিক বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু নির্বাচন করা নয়, বরং হাওড়া শহরের নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে এটিকে আরও উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ সম্পূর্ণ করে এই বছরের মধ্যেই নির্বাচিত পুরবোর্ডের হাতে দায়িত্বভার তুলে দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আসনবিন্যাসের কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিষেবার অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব নয়। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে নাগরিক পরিষেবার কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পায়। সেই কারণেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত পুরবোর্ড গঠনকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ডিসেম্বরের মধ্যেই হাওড়া এবং বালি— দুই পুর এলাকার দায়িত্ব নির্বাচিত পৌর প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রশাসনের আশা।
এছাড়াও হাওড়া শহরের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন তিনি। নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ, সাফাই ব্যবস্থা, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা, পার্কের সংখ্যা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পুরসভা পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নের কথাও জানান তিনি।
এই সমস্ত কাজের বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি বা কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ওই কমিটির সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন জেলাশাসক এবং পুরো প্রক্রিয়ার উপর নজর রাখবে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
দীর্ঘদিন ধরে ভোট না হওয়ার কারণে হাওড়ার বহু বাসিন্দার মধ্যেই অসন্তোষ ছিল। স্থানীয় স্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির অভাবে নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধান ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছিল। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এখন দেখার, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং সত্যিই ডিসেম্বরের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত পুরভোট অনুষ্ঠিত হয় কি না।