• ৩ চৈত্র ১৪৩২
  • বুধবার
  • ১৮ মার্চ ২০২৬
ad
ad

Breaking News

Calcutta High Court animal slaughter

পশুজবাই সংক্রান্ত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি বহাল, প্রকাশ্যে জবাই নিষিদ্ধের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

বকরি ইদের আগে পশুজবাই নিয়ে রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্ট। ‘ফিটনেস শংসাপত্র’ ছাড়া জবাই করা যাবে না বলেও জানিয়েছে আদালত।

পশুজবাই সংক্রান্ত রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি বহাল, প্রকাশ্যে জবাই নিষিদ্ধের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

Calcutta High Court animal slaughter

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 21, 2026 4:47 pm
  • Update:May 21, 2026 4:47 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: বকরি ইদের আগে পশুজবাই সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকাকে বহাল রাখল Calcutta High Court। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি Sujoy Paul এবং বিচারপতি Parthasarathi Sen-এর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, গত ১৩ মে রাজ্য সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি (Calcutta High Court animal slaughter) করেছিল তা আপাতত কার্যকর থাকবে। তবে সেই বিজ্ঞপ্তিতে কিছু অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রকাশ্যে কোনও ধরনের পশুজবাই করা যাবে না— এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি পূর্ববর্তী আদালতের রায়ে গরু কোরবানি সংক্রান্ত যে পর্যবেক্ষণ ছিল, সেটিও নির্দেশিকায় কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।

এই নির্দেশের ফলে জবাইয়ের ক্ষেত্রে ‘ফিটনেস শংসাপত্র’ বাধ্যতামূলক থাকছে। অর্থাৎ কোনও ব্যক্তি ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ বা স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর কিংবা নপুংসক মহিষ জবাই করতে পারবেন না, যদি না সংশ্লিষ্ট প্রাণীটিকে জবাইয়ের উপযুক্ত বলে সরকারি অনুমোদিত শংসাপত্র দেওয়া হয়।

আদালত আরও জানিয়েছে, আইনের ধারা ১২ অনুযায়ী যদি কোনও ব্যক্তি ছাড়ের আবেদন করেন, তবে সেই আবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে রাজ্য সরকারকে। একই সঙ্গে শংসাপত্র প্রদানের পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা পর্যালোচনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যদিও মামলার মূল বিষয় (Calcutta High Court animal slaughter) — অর্থাৎ আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে শুনানি এখনও চলবে, আদালত আপাতত বিজ্ঞপ্তির উপর কোনও স্থগিতাদেশ জারি করেনি।

শুনানির সময় আদালত State of Bihar vs Mohammad Hanif Qureshi মামলায় Supreme Court of India-এর পর্যবেক্ষণের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সেই রায়ে শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল যে, গরু জবাই ইদ-উজ-জোহার অপরিহার্য ধর্মীয় অংশ নয় এবং ইসলাম ধর্মে এটিকে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় প্রয়োজনীয়তা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়নি।

এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাকারীদের মধ্যে এক পক্ষের দাবি ছিল, শুধু গরু নয়, সমস্ত ধরনের পশুজবাইয়ের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নামে নিরীহ পশুহত্যা বন্ধ করা উচিত।

অন্যদিকে আরেক মামলাকারী মহম্মদ জাফর ইয়াসনির দাবি, সরকার যেন আইন মেনে স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করে এবং অনুমোদিত জবাইখানার তালিকা প্রকাশ করে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে রাজ্যে ‘ফিটনেস শংসাপত্র’ দেওয়ার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই। এর আগে আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলেও তাঁর দাবি।

শুনানিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, শুধুমাত্র ১৪ বছরের বেশি বয়সী বা স্থায়ীভাবে অক্ষম পশুকেই জবাইয়ের উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এখন মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর থাকলেও আপাতত বকরি ইদের আগে রাজ্যের জারি করা পশুজবাই সংক্রান্ত নিয়মই কার্যকর থাকছে।

More News